প্রাচীন প্রত্নস্থলে পাওয়া কিছু মানুষের মস্তিষ্ক হাজার বছর পরও কীভাবে টিকে থাকে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল ছিল। নতুন এক গবেষণায় এই রহস্যের সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণায় উঠে এসেছে, আর্দ্র ও কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশে মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ প্রোটিন মৃত্যুর পরেও স্থায়ী গঠন তৈরি করতে পারে। এই গঠনগুলো প্রোটিনকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকতে সাহায্য করে।
গবেষণায় মিলল নতুন যোগসূত্র
গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, মস্তিষ্কের যে প্রোটিনগুলো মৃত্যুর পর টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি, সেগুলো জীবিত অবস্থায় মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া এবং আলঝেইমার রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এতে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, জীবনের সময় প্রোটিন স্থিতিশীল রাখার যে প্রক্রিয়া কাজ করে, মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক সংরক্ষিত থাকার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে।

পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মস্তিষ্কের গঠন নয়, সংরক্ষণের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেখানে পানি বেশি এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে, সেখানে পচন ধীর হয়ে যায় এবং কিছু জৈব উপাদান দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মানুষের মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তন ও বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রাচীন মস্তিষ্ক সংরক্ষণের রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি এটি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাতেও নতুন দিক দেখাতে পারে।
প্রাচীন মস্তিষ্ক সংরক্ষণের রহস্য নিয়ে নতুন গবেষণায় জানা গেল, কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশে বিশেষ প্রোটিন টিকে থাকার কারণেই হাজার বছর পরও মস্তিষ্ক অক্ষত থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















