পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা, জিয়ারাত এবং আশপাশের এলাকায় শনিবার ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও মাত্রা
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (পিএমডি) অধীন পরিচালিত ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কোয়েটা থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ এবং ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়।
কম্পন অনুভূত হলেও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
ভূমিকম্পের কম্পন কোয়েটা, জিয়ারাত এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়া বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা
গত মাসেও পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং পাঞ্জাবের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সে সময় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায়, ভূপৃষ্ঠের ২১৫ কিলোমিটার গভীরে।
ওই ভূমিকম্পে পেশোয়ার, সোয়াত, বুনের, হাঙ্গু, শাংলা, কোহাট, মোহমান্দ, চারসাদ্দা, সোয়াবি, মানসেহরা ও অ্যাবোটাবাদসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন জেলা এবং পাঞ্জাব, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কেন ভূমিকম্পপ্রবণ পাকিস্তান
ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে ঘন ঘন ভূকম্পন ঘটে। গত কয়েক দশকে দেশটি একাধিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।
কোয়েটা ও জিয়ারাতে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প। এনএসএমসি জানিয়েছে, কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















