স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে আর্জেন্টিনাজুড়ে।
খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ভরা পরিবেশ বদলে যায় গভীর নীরবতায়। অনেক সমর্থক চোখের জল লুকাতে পারেননি। তাদের কষ্টের বড় কারণ শুধু হার নয়, বরং এটি যে প্রায় নিশ্চিতভাবেই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ, সেই উপলব্ধি।
মেসিকে বিদায় জানানোর বেদনা
রাজধানী বুয়েনস আইরেসের বিভিন্ন স্থানে খেলা দেখতে জড়ো হওয়া সমর্থকদের অনেকেই বলেন, মেসিকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না—এই ভাবনাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

এক তরুণ সমর্থক বলেন, মেসি ফুটবল থেকে যা অর্জন করার ছিল, তার সবই করেছেন। তবুও বিশ্বকাপের এই বিদায় মুহূর্তটি মেনে নেওয়া কঠিন। আরেকজনের ভাষায়, মেসির সঙ্গে তাদের শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই এই বিদায় যেন একটি যুগের সমাপ্তি।
আশায় শুরু, হতাশায় শেষ
টানা কয়েকটি কঠিন ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। দেশের নানা প্রান্তে মানুষ পতাকা, জার্সি আর উচ্ছ্বাস নিয়ে খেলা দেখতে জড়ো হন।
ম্যাচ যত এগোয়, উত্তেজনার জায়গা দখল করে উদ্বেগ। দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ডে একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলের পর চারদিকে নেমে আসে স্তব্ধতা।
হারলেও দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট

পরাজয়ের হতাশা থাকলেও অনেক সমর্থক ম্যাচ শেষে দলকে করতালিতে সম্মান জানান। তাদের বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
অনেকেই মনে করেন, দলটি এবার শিরোপা জিততে না পারলেও লড়াই ছেড়ে না দেওয়ার যে মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
রাস্তায় নেমেও কৃতজ্ঞতা
হারের পরও বুয়েনস আইরেসের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের রাস্তায় দেখা যায়। কেউ আতশবাজি ফোটান, কেউ গাড়ির হর্ন বাজিয়ে দলের প্রতি সমর্থন জানান। অনেকেই জানিয়েছেন, দেশে ফিরলে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে তারা উপস্থিত থাকবেন।
সমর্থকদের কণ্ঠে একটাই বার্তা—শিরোপা না এলেও এই দল তাদের গর্বিত করেছে। আর মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আবেগঘন এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















