মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের কিছু অংশ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাঁর ভাষ্য, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি জানান, বৈশ্বিক নৌপরিবহন নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। তবে এই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে অন্য দেশগুলোকেও সামরিক সরঞ্জাম, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্যান্য উপায়ে এগিয়ে আসতে হবে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা
চলমান উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার পক্ষে রয়েছে। তবে সেই আলোচনা হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং এমন একটি সমঝোতা হতে হবে, যার শর্তগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ আন্তরিকভাবে মেনে চলবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সমঝোতা কার্যকর থাকতে পারে না, যদি তার শর্ত লঙ্ঘন করা হয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাবের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর এখন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















