ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজারো আন্দোলনকারী সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে, যদিও দিল্লি পুলিশ বলেছে পরিস্থিতি পেশাদারভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়।
আন্দোলনের মধ্যেই সংগঠনের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার কথা জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে এবং তাদের মূল দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হবে।
যন্তর মন্তরে উত্তেজনা
দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর মন্তরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। সংসদ অভিমুখে মিছিলের অনুমতি না থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনের সময় কিছু ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার পর পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে লাঠি ব্যবহার করে বলে ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। তবে পুলিশ বলেছে, সহিংসতার গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সোনম ওয়াংচুকের আবেদন
২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, হাসপাতাল থেকে সাময়িক ছাড়পত্র দিয়ে সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়ার অনুমতি চান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা জরুরি। ওয়াংচুক আগেই জানিয়েছিলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকার স্বীকার করলে অথবা সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের নিশ্চয়তা মিললে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা
আন্দোলনস্থলে আজাদ সমাজ পার্টির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আম আদমি পার্টির অতিশী, সঞ্জয় সিং ও মনীশ সিসোদিয়া, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং অভিনেত্রী শাবানা আজমিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। শাবানা আজমি বলেন, সংবিধানপ্রদত্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করতেই তারা সেখানে এসেছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যন্তর মন্তরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করিয়ে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক আত্মহত্যাকারী নিট পরীক্ষার্থীর বাবার অনুরোধে নিজের অনশন প্রত্যাহার করেন, যাতে তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারেন। একই সময়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আন্দোলনের পটভূমি
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিট প্রশ্নফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। বর্ষাকালীন সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে চেয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















