টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশার পর শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে সফর ইতিবাচকভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে চার উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা। চোটে একের পর এক মূল খেলোয়াড় ছিটকে পড়লেও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিকেই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়।
লিটন দাসের চোটের কারণে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব করা হৃদয় ম্যাচ শেষে জানান, সফরের শেষ দিকে দলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। একাধিক পেসারের অনুপস্থিতিতে সীমিত বিকল্প নিয়েই শেষ ম্যাচ খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
চোটের ধাক্কায় সংকটে বাংলাদেশ
হৃদয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের হাতে খেলার মতো ছিলেন মাত্র ১৩ জন ক্রিকেটার। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোট পান নাহিদ রানা। এর আগে থেকেই শারিফুল ইসলাম ছিলেন দলের বাইরে। পুরো সিরিজেই খেলতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান।

হ্যামস্ট্রিং ও হাঁটুর চোটের কারণে মোস্তাফিজুর পুরো সিরিজ মিস করেন। হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় শারিফুলও অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চার উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা দ্বিতীয় ম্যাচে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে পারেননি।
শেষ ম্যাচে তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান বাঁহাতি স্পিনার আবদুল গফ্ফার সাকলাইন। তিনি একটি উইকেট শিকার করেন। পরে ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
হতাশা কাটিয়ে ইতিবাচক সমাপ্তি
এই জয় সফরের শুরুতে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। একমাত্র টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ—দুই ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থান তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ।

হৃদয় বলেন, টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে দল নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সেখানে কিছু ভুল হয়েছে। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোটের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দল পরিস্থিতির সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
টি-টোয়েন্টিতে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য
বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দলের উন্নতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দল এখনই অনেক দূরের পরিকল্পনায় যাচ্ছে না। তাদের লক্ষ্য এক সময়ে একটি ম্যাচ এবং একটি সিরিজকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া।
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২০২২ সালের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















