০৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়? শিশুদের চরিত্র গঠন ছাড়া নিরাপদ বিদ্যালয় গড়া সম্ভব নয় প্রাচীন ইতালির হারানো ঐশ্বর্য ফিরিয়ে আনছে ইট্রাস্কান সভ্যতার বিস্ময় সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে সতর্কতা: দূষিত খাবার থেকে বাঁচতে যা জানা জরুরি শ্রেষ্ঠ বই কেন আজও মানুষের চিন্তার আলো, সাহিত্যের শক্তি নিয়ে নতুন ভাবনা ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে অনলাইন জুয়া দমনে চীনের বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৭ জন নেটফ্লিক্সে ফিরল ‘লিটল হাউস’: নতুন রূপে ইতিহাস, বর্ণবাদ ও সহাবস্থানের গল্প অলিভিয়া ওয়াইল্ডের নতুন ছবি ‘দ্য ইনভাইট’: ব্যক্তিগত হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি দাম্পত্য কমেডি বিনিয়োগকারীদের মতামত চাইল বিএসইসি, মার্জিন রুলস ২০২৫-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ শিক্ষা সংস্কার ও পরীক্ষা অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন: আলোচনায় যাচ্ছে সিজেপি, ২৩ দিনের অনশন শেষ করলেন শিক্ষার্থীরা

খাদ্য শিল্পে নতুন সংকট: মূল্যস্ফীতি ও ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে ভোক্তার পছন্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বড় খাদ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। মূল্যস্ফীতি, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তার কারণে বহু পুরোনো ব্র্যান্ডের বিক্রি ও মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে।

বড় খাদ্য কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে দাম কমানো, প্রচারণা বাড়ানো এবং পণ্যে বেশি প্রোটিন যোগ করার মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। জেনারেল মিলস ও ক্রাফট হেইঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানের আয় কমছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও দুর্বল হচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে মানুষের খাবারের অভ্যাস

ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ ধরনের ওষুধের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ কম ক্যালরির খাবার, বেশি প্রোটিনযুক্ত পণ্য এবং সহজ উপাদানের খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ভোক্তারা খাবারের উপাদান সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হচ্ছেন।

ফলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনেক খাবারের চাহিদা কমছে। ছোট নতুন ব্র্যান্ড এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে।

দুই দিক থেকে চাপের মুখে কোম্পানিগুলো

খাদ্য বাজারে এখন এক ধরনের দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। উচ্চ আয়ের ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর ও উন্নত মানের পণ্য বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলো খরচ কমাতে সস্তা বিকল্প ও দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের দিকে যাচ্ছেন।

খাদ্য সহায়তার সুবিধা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বড় খাদ্য কোম্পানিগুলোর বিক্রিতে।

Big Food Is Running Out of Moves With Shoppers and Investors - WSJ

খরচ বাড়ছে, কমছে লাভের সুযোগ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি, সার, প্যাকেট তৈরির উপকরণ এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আগে কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ সহজে পণ্যের দামে যোগ করতে পারলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বড় খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তারা দাম বাড়ানোর চাপ কমাতে চাইছে।

পুরোনো ব্র্যান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ

কনাগ্রা সম্প্রতি লভ্যাংশ কমিয়েছে এবং নতুন অর্থবছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় কমার ইঙ্গিত দিয়েছে। ক্রাফট হেইঞ্জ ও ক্যাম্পবেলসও একই ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো পণ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে সফল হওয়া কঠিন। মানুষের নতুন চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নতুন পণ্য তৈরি, শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগই হতে পারে সমাধানের পথ।

ঘুরে দাঁড়াতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে

জেনারেল মিলস ইতোমধ্যে নতুন ধরনের পণ্য তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বড় পরিবর্তন আনতে সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণের চাপ ও উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও সমস্যা বাড়াচ্ছে।

খাদ্য শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবার সাধারণ ক্রেতার আস্থা ফিরে পাওয়া। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি ও ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবে বড় খাদ্য কোম্পানিগুলো সংকটে পড়েছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের খাবারের পছন্দ, চাপ বাড়ছে পুরোনো ব্র্যান্ডে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়?

খাদ্য শিল্পে নতুন সংকট: মূল্যস্ফীতি ও ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে ভোক্তার পছন্দ

০৫:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বড় খাদ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। মূল্যস্ফীতি, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তার কারণে বহু পুরোনো ব্র্যান্ডের বিক্রি ও মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে।

বড় খাদ্য কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে দাম কমানো, প্রচারণা বাড়ানো এবং পণ্যে বেশি প্রোটিন যোগ করার মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। জেনারেল মিলস ও ক্রাফট হেইঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানের আয় কমছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও দুর্বল হচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে মানুষের খাবারের অভ্যাস

ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ ধরনের ওষুধের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ কম ক্যালরির খাবার, বেশি প্রোটিনযুক্ত পণ্য এবং সহজ উপাদানের খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ভোক্তারা খাবারের উপাদান সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হচ্ছেন।

ফলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনেক খাবারের চাহিদা কমছে। ছোট নতুন ব্র্যান্ড এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে।

দুই দিক থেকে চাপের মুখে কোম্পানিগুলো

খাদ্য বাজারে এখন এক ধরনের দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। উচ্চ আয়ের ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর ও উন্নত মানের পণ্য বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলো খরচ কমাতে সস্তা বিকল্প ও দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের দিকে যাচ্ছেন।

খাদ্য সহায়তার সুবিধা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বড় খাদ্য কোম্পানিগুলোর বিক্রিতে।

Big Food Is Running Out of Moves With Shoppers and Investors - WSJ

খরচ বাড়ছে, কমছে লাভের সুযোগ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি, সার, প্যাকেট তৈরির উপকরণ এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আগে কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ সহজে পণ্যের দামে যোগ করতে পারলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বড় খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তারা দাম বাড়ানোর চাপ কমাতে চাইছে।

পুরোনো ব্র্যান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ

কনাগ্রা সম্প্রতি লভ্যাংশ কমিয়েছে এবং নতুন অর্থবছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় কমার ইঙ্গিত দিয়েছে। ক্রাফট হেইঞ্জ ও ক্যাম্পবেলসও একই ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো পণ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে সফল হওয়া কঠিন। মানুষের নতুন চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নতুন পণ্য তৈরি, শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগই হতে পারে সমাধানের পথ।

ঘুরে দাঁড়াতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে

জেনারেল মিলস ইতোমধ্যে নতুন ধরনের পণ্য তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বড় পরিবর্তন আনতে সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণের চাপ ও উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও সমস্যা বাড়াচ্ছে।

খাদ্য শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবার সাধারণ ক্রেতার আস্থা ফিরে পাওয়া। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি ও ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবে বড় খাদ্য কোম্পানিগুলো সংকটে পড়েছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের খাবারের পছন্দ, চাপ বাড়ছে পুরোনো ব্র্যান্ডে।