যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির সূচক শিগগিরই নতুন পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে মূল মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কিছুটা কম দেখা যেতে পারে। এমন সময় এই পরিবর্তন আসছে, যখন সুদের হার আরও বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মূল্যস্ফীতির হিসাব বদলাচ্ছে
ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের মূল্যসূচকের মূল অংশে তিনটি খাতের হিসাব করার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। সফটওয়্যার, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং আইনগত সেবার ব্যয় নতুনভাবে গণনা করা হবে। সংশোধিত পদ্ধতি চালু হলে মূল মূল্যস্ফীতির হার প্রায় শূন্য দশমিক দুই শতাংশ পয়েন্ট কমে যেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা।
নতুন এই পদ্ধতি আগস্ট মাসের তথ্যের সঙ্গে কার্যকর হবে, যা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে গত পাঁচ বছরের তথ্যও সংশোধিত আকারে প্রকাশ করা হবে।
কেন এই পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মূল্য নির্ধারণে এমন কিছু পণ্যের দামও যুক্ত হচ্ছিল, যা আসলে হার্ডওয়্যার খাতের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সফটওয়্যার খাতের মূল্যস্ফীতিও তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছিল।
নতুন পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করে সফটওয়্যারের প্রকৃত মূল্য পরিবর্তন আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার নতুন হিসাব
বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতদিন শেয়ারবাজারের মূল্য বাড়লে সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যবস্থাপনা ফিও বেড়ে যেত, যা মূল্যস্ফীতির অংশ হিসেবে ধরা হতো।
নতুন পদ্ধতিতে কেবল সম্পদের মূল্য নয়, সেবা প্রদানে প্রকৃত কাজের পরিমাণও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এতে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হিসাব তুলনামূলক কম আসতে পারে।
আইনগত সেবায় ভিন্ন চিত্র
অন্যদিকে আইনগত সেবার ব্যয় পরিমাপের ক্ষেত্রে নতুন তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হবে। এর ফলে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সফটওয়্যার ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা খাতে যে কমতির প্রভাব পড়বে, সেটিই সামগ্রিকভাবে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব পড়তে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনে মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক চিত্র খুব বেশি বদলাবে না। কারণ দীর্ঘ সময় ধরেই মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।
তবে যখন সুদের হার বাড়ানোর প্রশ্নে নীতিনির্ধারকদের মতভেদ রয়েছে, তখন মূল্যস্ফীতির সামান্য কম হিসাবও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
এই পরিবর্তনকে নিয়মিত পরিসংখ্যানগত হালনাগাদের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, কিছু অর্থনীতিবিদ পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি তুলেছেন। বিশেষ করে সফটওয়্যারের নতুন হিসাবের পদ্ধতি এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার নতুন সূত্র নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিসংখ্যানকে আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি পরিমাপের নতুন পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে। এতে মূল মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কম দেখা যেতে পারে, যা সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















