০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়? শিশুদের চরিত্র গঠন ছাড়া নিরাপদ বিদ্যালয় গড়া সম্ভব নয় প্রাচীন ইতালির হারানো ঐশ্বর্য ফিরিয়ে আনছে ইট্রাস্কান সভ্যতার বিস্ময় সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে সতর্কতা: দূষিত খাবার থেকে বাঁচতে যা জানা জরুরি শ্রেষ্ঠ বই কেন আজও মানুষের চিন্তার আলো, সাহিত্যের শক্তি নিয়ে নতুন ভাবনা ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে অনলাইন জুয়া দমনে চীনের বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৭ জন নেটফ্লিক্সে ফিরল ‘লিটল হাউস’: নতুন রূপে ইতিহাস, বর্ণবাদ ও সহাবস্থানের গল্প অলিভিয়া ওয়াইল্ডের নতুন ছবি ‘দ্য ইনভাইট’: ব্যক্তিগত হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি দাম্পত্য কমেডি বিনিয়োগকারীদের মতামত চাইল বিএসইসি, মার্জিন রুলস ২০২৫-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ শিক্ষা সংস্কার ও পরীক্ষা অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন: আলোচনায় যাচ্ছে সিজেপি, ২৩ দিনের অনশন শেষ করলেন শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানিতে দুর্ভোগ, শতাধিক ঘরে পানি

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 28

টানা ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার অন্তত দেড় শতাধিক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি সোমবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিকেলেও থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছিল। এর প্রভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। দোকানপাট, সরকারি অফিস ও আদালতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

বসতঘরে পানি, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোবদাসপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিতে অন্তত দেড় শতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। অনেকেই বালতি দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল বলেন, রাস্তা ও ড্রেনের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের বাড়িগুলো এখন তুলনামূলক নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ঘরে ঢুকে পড়ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি

তাড়াশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার গভীর রাত থেকেই সিরাজগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল, যা শহরের জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

কেন বাড়ছে জলাবদ্ধতা

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার করের মতে, জলাবদ্ধতার কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ নয়, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণও বড় একটি কারণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ—দুই-ই কমে গেছে। পাশাপাশি নদী ও খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না।

পৌর প্রশাসনের বক্তব্য

সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনেই ফিরে যাচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি এবং জনভোগান্তি কমানো কঠিন হবে।

সিরাজগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় শহরের সড়ক ও শতাধিক বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ড্রেনেজ সংকট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়?

সিরাজগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানিতে দুর্ভোগ, শতাধিক ঘরে পানি

০৫:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার অন্তত দেড় শতাধিক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি সোমবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিকেলেও থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছিল। এর প্রভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। দোকানপাট, সরকারি অফিস ও আদালতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

বসতঘরে পানি, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোবদাসপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিতে অন্তত দেড় শতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। অনেকেই বালতি দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল বলেন, রাস্তা ও ড্রেনের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের বাড়িগুলো এখন তুলনামূলক নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ঘরে ঢুকে পড়ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি

তাড়াশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার গভীর রাত থেকেই সিরাজগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল, যা শহরের জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

কেন বাড়ছে জলাবদ্ধতা

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার করের মতে, জলাবদ্ধতার কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ নয়, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণও বড় একটি কারণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ—দুই-ই কমে গেছে। পাশাপাশি নদী ও খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না।

পৌর প্রশাসনের বক্তব্য

সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনেই ফিরে যাচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি এবং জনভোগান্তি কমানো কঠিন হবে।

সিরাজগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় শহরের সড়ক ও শতাধিক বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ড্রেনেজ সংকট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।