বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটার লিটন দাসকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তলব করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডকে অবহিত না করে বিদেশ সফরে যাওয়ার অভিযোগে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা নিয়েছে।
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হওয়ায় বিদেশ সফরসহ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বোর্ডকে অবহিত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফর শেষে বোর্ডকে না জানিয়েই লিটনের চীন সফরে যাওয়ার বিষয়টি বিসিবির নজরে এলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
শুনানিতে ব্যাখ্যা
বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির শুনানিতে লিটন দাস নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, শুনানিতে ক্রিকেটারের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখন বোর্ডের মেডিকেল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে লিটনের বক্তব্যে বড় ধরনের কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বোর্ড আপাতত নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে।
ইনজুরি ও পুনর্বাসনের প্রেক্ষাপট
কুঁচকির চোটের কারণে লিটন দাস জিম্বাবুয়ে সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। একই কারণে তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও অংশ নিতে পারেননি। জানা গেছে, ইনজুরির পুনর্বাসনের জন্য ২০ জুলাই তার সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বোর্ডকে না জানিয়ে চীন সফরে যাওয়ার ঘটনাটি বিসিবির দৃষ্টিতে আসে এবং সেটিই শৃঙ্খলাজনিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বিসিবির অবস্থান
বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, লিটন দাসের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো নজির নেই। তার মতে, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে না পারার হতাশা এবং যোগাযোগের ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি যোগাযোগের ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হলেও কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বোর্ডকে না জানিয়ে বিদেশ সফর করা নিয়মের বিচ্যুতি। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বিসিবি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
বোর্ডের মেডিকেল কমিটির মতামত এবং প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।
বোর্ডকে না জানিয়ে চীন সফরে যাওয়ার অভিযোগে লিটন দাসের ব্যাখ্যা নিয়েছে বিসিবি। মেডিকেল কমিটির মতামত যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত জানাবে বোর্ড।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















