জাপানে তিন দিনের ছুটির মধ্যেই তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সোমবার দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠায় খেলার মাঠ ও পার্কগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষ বাধ্য হয়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবন ও ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিচ্ছেন। একই দিনে জাপান আবহাওয়া সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, টোকিওসহ কান্টো-কোশিন এবং টোকাই অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের সমাপ্তি ঘটেছে।
বর্ষার সমাপ্তি, শুরু আরও গরমের
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কান্টো-কোশিন ও টোকাই অঞ্চলে এ বছর বর্ষা মৌসুম গড় সময়ের তুলনায় এক দিন পরে শেষ হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ সমাপ্তি হয়েছে তিন সপ্তাহেরও বেশি দেরিতে।
সোমবার সকাল ৮টার মধ্যেই টোকিওর তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। পরে জাপান ওয়েদার অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সকাল ১১টা ৯ মিনিটে রাজধানীর তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, যা চলতি বছরের প্রথম ‘অত্যন্ত গরম দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর টোকিওতে ৭ জুলাইই প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল।
চরম গরমে বদলে গেছে নগরজীবন
তীব্র রোদের কারণে ছুটির দিনেও আশপাশের পার্কগুলো ছিল প্রায় জনশূন্য। স্লাইড ও খেলাধুলার সরঞ্জাম এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে শিশুদের বাইরে খেলতে দেখা যায়নি বললেই চলে। পথচারীরা ছাতা ব্যবহার করে ছায়া খুঁজে দ্রুত এক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থান থেকে অন্যটিতে যাচ্ছিলেন।
টোকিওর সুগিনামি ওয়ার্ডের নিশি-ওগিকুবো এলাকার বাসিন্দা নেনে, যিনি পেশায় একজন নেইল টেকনিশিয়ান, বলেন, বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, গ্রীষ্মকালে এখন সিনেমা হল, অ্যাকোয়ারিয়ামসহ বিভিন্ন ইনডোর বিনোদনকেন্দ্র বিশেষ আয়োজন করছে, কারণ মানুষ বাধ্য হয়েই ঘরের ভেতরের পরিবেশ বেছে নিচ্ছেন।

আরও কয়েক দিন থাকবে তাপপ্রবাহ
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুনমা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আইচি প্রিফেকচারের নাগোয়ায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কর্তৃপক্ষ মানুষকে যতটা সম্ভব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থানে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টোকিওতে তীব্র গরম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। রাতের তাপমাত্রাও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক ঘুম ও শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এতে টানা কয়েক দিনের গরমে শারীরিক চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
বিশ্বজুড়েই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। জাপানও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশটি ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো রেকর্ড গরমের গ্রীষ্ম পার করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
টোকিওতে বর্ষা শেষ, ৩৫ ডিগ্রি ছাড়ানো তাপদাহে জাপানে সতর্কতা; কয়েক দিন আরও চরম গরম অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















