১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়? শিশুদের চরিত্র গঠন ছাড়া নিরাপদ বিদ্যালয় গড়া সম্ভব নয় প্রাচীন ইতালির হারানো ঐশ্বর্য ফিরিয়ে আনছে ইট্রাস্কান সভ্যতার বিস্ময় সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে সতর্কতা: দূষিত খাবার থেকে বাঁচতে যা জানা জরুরি শ্রেষ্ঠ বই কেন আজও মানুষের চিন্তার আলো, সাহিত্যের শক্তি নিয়ে নতুন ভাবনা ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে অনলাইন জুয়া দমনে চীনের বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৭ জন নেটফ্লিক্সে ফিরল ‘লিটল হাউস’: নতুন রূপে ইতিহাস, বর্ণবাদ ও সহাবস্থানের গল্প অলিভিয়া ওয়াইল্ডের নতুন ছবি ‘দ্য ইনভাইট’: ব্যক্তিগত হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি দাম্পত্য কমেডি বিনিয়োগকারীদের মতামত চাইল বিএসইসি, মার্জিন রুলস ২০২৫-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ শিক্ষা সংস্কার ও পরীক্ষা অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন: আলোচনায় যাচ্ছে সিজেপি, ২৩ দিনের অনশন শেষ করলেন শিক্ষার্থীরা

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুরু নতুন অধ্যায়

ব্রিটেনে আবারও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন। মাত্র এক দশকে তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। এই পরিবর্তনের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন সংকটসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন

অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। স্টারমার মাত্র দুই বছর আগে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে লেবারকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে ধারাবাহিক বিতর্ক, নীতিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

কঠিন বাস্তবতার মুখে নতুন সরকার

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মন্থর অর্থনীতি, সরকারি ঋণের উচ্চ ব্যয়, দ্রুত বাড়তে থাকা কল্যাণমূলক ব্যয় এবং অনিয়মিত অভিবাসন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বার্নহ্যামের দল জানিয়েছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে তার অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনেই বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত

দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি আগের সরকারের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাতিল করেছেন। তার মতে, এই প্রকল্পে ব্যয় হওয়ার কথা থাকা অর্থ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং জরুরি জনসেবায় ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

তিন বছরের মধ্যেই দিতে হবে ফল

আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৯ সালে। ফলে নতুন সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নয়। বার্নহ্যাম নিজেই বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য এটি সঠিক পথে ফেরার শেষ সুযোগ। তিনি দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

খনিজ সম্পদের নতুন ভূরাজনীতি: একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়?

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুরু নতুন অধ্যায়

০৬:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ব্রিটেনে আবারও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন। মাত্র এক দশকে তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। এই পরিবর্তনের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন সংকটসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন

অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। স্টারমার মাত্র দুই বছর আগে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে লেবারকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে ধারাবাহিক বিতর্ক, নীতিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

কঠিন বাস্তবতার মুখে নতুন সরকার

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মন্থর অর্থনীতি, সরকারি ঋণের উচ্চ ব্যয়, দ্রুত বাড়তে থাকা কল্যাণমূলক ব্যয় এবং অনিয়মিত অভিবাসন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বার্নহ্যামের দল জানিয়েছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে তার অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনেই বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত

দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি আগের সরকারের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাতিল করেছেন। তার মতে, এই প্রকল্পে ব্যয় হওয়ার কথা থাকা অর্থ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং জরুরি জনসেবায় ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

তিন বছরের মধ্যেই দিতে হবে ফল

আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৯ সালে। ফলে নতুন সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নয়। বার্নহ্যাম নিজেই বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য এটি সঠিক পথে ফেরার শেষ সুযোগ। তিনি দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।