যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও ইরানি হামলা ও পাল্টা প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
এক মাস আগে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা দুর্বল করা। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি কমানোও ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
ইরানের পাল্টা হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে সতর্কতা
ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান ইরানি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
কুয়েতের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাতেও হামলার কারণে আগুন লাগার খবর এসেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন সংকট
হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি জাহাজ তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে অনিরাপদ পথে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে দুটি জাহাজ পথ পরিবর্তন করে এবং দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে
চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ জন সেনা নিহত এবং চার শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বার্তায় বাড়ছে চাপ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















