২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে অবৈধ অনলাইন ফুটবল জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে চীনের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা, অবৈধ বেটিং বাজার তৈরি এবং অর্থ লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে একাধিক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১০টি ঘটনায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে অবৈধ জুয়ার নেটওয়ার্ক
চীনের জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন ফুটবল বেটিং সংক্রান্ত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় বিদেশি জুয়া ওয়েবসাইটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে অবৈধ বাজির বাজার পরিচালনা এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জুয়ায় যুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের সাইবার পুলিশ এসব অভিযানে অংশ নেয়। কয়েকটি ঘটনায় অভিযুক্তরা বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের হয়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও বাজি পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রদেশে গ্রেপ্তার, চলছে আইনি ব্যবস্থা
সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ঝেজিয়াং, হুবেই ও শানসিসহ কয়েকটি প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শানসি প্রদেশের তাইইউয়ানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইন ফুটবল জুয়ায় অংশ নেওয়া এবং অন্যদের হয়ে বাজি ধরার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি একটি অবৈধ জুয়া প্ল্যাটফর্মে শতাধিকবার বাজি ধরেছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অবৈধ অর্থ লেনদেনেও কঠোর নজরদারি
চীনের সিচুয়ান প্রদেশের নানছং এলাকায় বিদেশি ফুটবল জুয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি সেবা দেওয়া একটি চক্রকে শনাক্ত করেছে সাইবার পুলিশ।
অভিযানে তিনটি কার্যক্রম পরিচালনার স্থান বন্ধ করা হয় এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ ঘিরে অনলাইন অপরাধ ঠেকাতে বাড়ছে তৎপরতা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুনান, সিচুয়ান ও ছিংহাইসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি অবৈধ বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব চক্র বিদেশি জুয়া সাইটে মানুষকে বাজি ধরতে উৎসাহিত করত এবং এর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আয় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অবৈধ অর্থ লেনদেন বন্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















