বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও দেশে ফিরে অভূতপূর্ব ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। সোমবার শীত ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো সমর্থক রাজধানীর বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন প্রিয় দলকে স্বাগত জানাতে। তবে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বহনকারী বিমানে দেখা যায়নি।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর বিমানবন্দর
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের হতাশা থাকলেও সমর্থকদের আবেগে তার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। গান, নাচ, পতাকা আর আতশবাজিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিমান থেকে নেমে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও দলের অন্য সদস্যদের লাল গালিচা এবং আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। পরে তারা বাসে করে যাত্রা করলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।
মেসির জন্য ভালোবাসা, অবসরের বিরুদ্ধে আবেদন

অনেক সমর্থক বলেন, শিরোপা না এলেও এই দল তাদের গর্বের প্রতীক। বিশেষ করে লিওনেল মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারা অনুরোধ জানান, যেন তিনি জাতীয় দলের জার্সি ছেড়ে না দেন। যদিও অনেকেই স্বীকার করেন, তার বয়স বিবেচনায় ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে মেসি লিখেছেন, এই হার অনেক কষ্টের এবং সেই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেছেন দলের অর্জনকেও। তার ভাষায়, টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা নিজেই একটি বড় সাফল্য।
ফাইনাল নিয়ে বিতর্ক, তবুও গর্বিত আর্জেন্টিনা
ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ম্যাচে অতিরিক্ত ফাউল ও খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবুও অনেক সমর্থকের মতে, পুরো আসরে দলের লড়াই এবং বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কিছু সমর্থক সেই ম্যাচকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবেও দেখেছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী বার্তাসংবলিত পতাকা ও ব্যানারও দেখা যায়।

উৎসবের পর কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উদযাপনস্থলে হাজারো মানুষ আনন্দ-উল্লাসে অংশ নেন। তবে গভীর রাতে সেখানে কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ অভিযানের সম্মানে একটি বিশেষ সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তারিখ জানানো হয়নি।
শিরোপা জিততে না পারলেও দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা যে এই দলের প্রতি অটুট রয়েছে, বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর রাজপথ—সবখানেই তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















