প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের দাবি করা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে চীন ও রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ যৌথভাবে সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান। এ ঘটনাকে ঘিরে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যৌথ সামরিক তৎপরতা
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার চীনা ও রুশ নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজকে প্রশান্ত মহাসাগরে একসঙ্গে মহড়া চালাতে দেখা যায়। এতে চীনের দুটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং একটি সরবরাহ জাহাজের সঙ্গে রাশিয়ার একটি ফ্রিগেট অংশ নেয়।
জাহাজগুলোকে দূরবর্তী ওকিনোতোরি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পরে তারা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
জাপানের প্রতিক্রিয়া

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বিদেশ সফরের সময় এই যৌথ মহড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।
জাপান দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সর্বশেষ এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব
প্রশান্ত মহাসাগরের এই অংশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে বড় শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং যৌথ মহড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। নৌবাহিনীর যৌথ মহড়াও সেই সম্পর্কেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















