গায়ানার উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো অন্তত ৮৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল দিনরাত অভিযান চালিয়ে গেলেও অনেকের খোঁজ মেলেনি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবিতদের খুঁজে বের করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
উদ্ধার অভিযানে সময়ের সঙ্গে লড়াই
দুর্ঘটনার শিকার ফেরিটি ছিল এমভি বারিমা। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে এটি রাজধানী জর্জটাউন থেকে দেশের উত্তরের পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। রাতে দুর্ঘটনার পর জরুরি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি বেসরকারি নৌযানও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
এ পর্যন্ত ৬৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। যাদের স্বজন ওই ফেরিতে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যাত্রীর সংখ্যা নিয়ে বড় অসঙ্গতি
প্রাথমিক তালিকায় ফেরিটিতে ১৩৩ জন যাত্রীর নাম থাকলেও পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকৃত সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। এতে যাত্রী তালিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সরকার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। অবহেলা, অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক পরীক্ষায় ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দুর্ঘটনার পর ফেরির ক্যাপ্টেন ও অন্তত একজন নাবিকের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ক্যাপ্টেনসহ কয়েকজন ক্রুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সরকার বলেছে, দায়িত্ব পালনকালে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিতে পানি ঢোকে
উদ্ধার পাওয়া এক যাত্রীর বর্ণনায় জানা যায়, বড় একটি ঢেউ ফেরিটিকে একদিকে কাত করে দেয়। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। তিনি ভাসমান একটি বাক্স আঁকড়ে ধরে প্রাণে বাঁচেন। তবে তার দুই বছরের সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি আরেক নারীকে ভাসমান বাক্স ধরে থাকতে সাহায্য করেন।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন শিশু রয়েছে। ছোট ছোট বেসরকারি নৌকাও অনেক যাত্রীকে সাগর থেকে তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছেছে
উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে প্রতিবেশী অঞ্চল থেকে ডুবুরি, চিকিৎসক ও কারিগরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েকজনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। অধিকাংশ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘ সময় ভাসমান ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে থাকার কারণে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















