০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শ্রীলঙ্কায় চাল আমদানিতে বিপাকে কৃষক, দেশীয় উৎপাদনের চাহিদা কমেছে ৬০ শতাংশ

প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির ফলে শ্রীলঙ্কার দেশীয় চালের বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চালের চাহিদা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে এবং ২০২৬ সালের ইয়ালা মৌসুমের ধান সংগ্রহকে সামনে রেখে কৃষকেরা নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল অ্যাগ্রেরিয়ান্স ইউনিটি।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান অনুরাধা তেন্নাকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে ছোট, মাঝারি ও বড় মিল মালিকদের গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল বিক্রি না হয়ে জমে রয়েছে।

স্থানীয় বাজারে চাপ বাড়ছে

তেন্নাকুনের দাবি, অতিরিক্ত চাল আমদানির কারণে দেশীয় চাল ও ধানের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী ইয়ালা মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ওপর। এতে হাজারো কৃষক আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

Fertiliser Shock and Imports Disrupt Sri Lanka Agriculture Stability - LNW  Lanka News Web

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ইয়ালা মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৫-২৬ সালের মাহা মৌসুমের অবিক্রীত ধানের মজুত এখনো ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে রয়েছে। এটি মাহা মৌসুমের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

বাজারে ধানের মজুত আরও বাড়ার আশঙ্কা

সংগঠনটির হিসাবে, নতুন ইয়ালা মৌসুমের ফসল ঘরে উঠলে দেশে মোট ধানের মজুত ২৪ লাখ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু আমদানিকৃত চালের কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান ও চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব মজুত বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ধান কেনায় সীমাবদ্ধতার অভিযোগ

তেন্নাকুন অভিযোগ করেন, প্যাডি মার্কেটিং বোর্ড (পিএমবি) আমপারা-সহ প্রধান কৃষি জেলাগুলোতে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কেজি ধান কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই থেকে পাঁচ একর জমিতে চাষ করা একজন কৃষক সাধারণত ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কেজি ধান উৎপাদন করেন। ফলে নির্ধারিত সীমার কারণে তাদের উৎপাদনের বড় অংশ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

Sri Lanka's Organic Experiment Went Very, Very Wrong - Modern Farmer

তিনি প্রশ্ন তোলেন, অবিক্রীত এই বিপুল পরিমাণ ধান কৃষকেরা কোথায় সংরক্ষণ করবেন। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, এগুলো কি কৃষি কর্মকর্তাদের বা মন্ত্রীদের বাড়িতে রাখা হবে?

নতুন নির্দেশনা নিয়েও সমালোচনা

পিএমবির নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ধানের বস্তার ওজন ঠিক ৫০ দশমিক ২৫০ কেজি হতে হবে—এমন শর্তকেও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন তেন্নাকুন। তার অভিযোগ, এই নিয়ম সরকারি ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ধীর করার পাশাপাশি কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

এ ছাড়া সার, কৃষি রাসায়নিক ও কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত কর উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে কৃষকদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে বলে তার মন্তব্য।

শ্রীলঙ্কায় অতিরিক্ত চাল আমদানি, অবিক্রীত ধানের মজুত এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কৃষি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে কৃষক সংগঠনটির দাবি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শ্রীলঙ্কায় চাল আমদানিতে বিপাকে কৃষক, দেশীয় উৎপাদনের চাহিদা কমেছে ৬০ শতাংশ

০১:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির ফলে শ্রীলঙ্কার দেশীয় চালের বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চালের চাহিদা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে এবং ২০২৬ সালের ইয়ালা মৌসুমের ধান সংগ্রহকে সামনে রেখে কৃষকেরা নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল অ্যাগ্রেরিয়ান্স ইউনিটি।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান অনুরাধা তেন্নাকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে ছোট, মাঝারি ও বড় মিল মালিকদের গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল বিক্রি না হয়ে জমে রয়েছে।

স্থানীয় বাজারে চাপ বাড়ছে

তেন্নাকুনের দাবি, অতিরিক্ত চাল আমদানির কারণে দেশীয় চাল ও ধানের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী ইয়ালা মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ওপর। এতে হাজারো কৃষক আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

Fertiliser Shock and Imports Disrupt Sri Lanka Agriculture Stability - LNW  Lanka News Web

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ইয়ালা মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৫-২৬ সালের মাহা মৌসুমের অবিক্রীত ধানের মজুত এখনো ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে রয়েছে। এটি মাহা মৌসুমের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

বাজারে ধানের মজুত আরও বাড়ার আশঙ্কা

সংগঠনটির হিসাবে, নতুন ইয়ালা মৌসুমের ফসল ঘরে উঠলে দেশে মোট ধানের মজুত ২৪ লাখ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু আমদানিকৃত চালের কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান ও চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব মজুত বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ধান কেনায় সীমাবদ্ধতার অভিযোগ

তেন্নাকুন অভিযোগ করেন, প্যাডি মার্কেটিং বোর্ড (পিএমবি) আমপারা-সহ প্রধান কৃষি জেলাগুলোতে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কেজি ধান কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই থেকে পাঁচ একর জমিতে চাষ করা একজন কৃষক সাধারণত ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কেজি ধান উৎপাদন করেন। ফলে নির্ধারিত সীমার কারণে তাদের উৎপাদনের বড় অংশ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

Sri Lanka's Organic Experiment Went Very, Very Wrong - Modern Farmer

তিনি প্রশ্ন তোলেন, অবিক্রীত এই বিপুল পরিমাণ ধান কৃষকেরা কোথায় সংরক্ষণ করবেন। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, এগুলো কি কৃষি কর্মকর্তাদের বা মন্ত্রীদের বাড়িতে রাখা হবে?

নতুন নির্দেশনা নিয়েও সমালোচনা

পিএমবির নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ধানের বস্তার ওজন ঠিক ৫০ দশমিক ২৫০ কেজি হতে হবে—এমন শর্তকেও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন তেন্নাকুন। তার অভিযোগ, এই নিয়ম সরকারি ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ধীর করার পাশাপাশি কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

এ ছাড়া সার, কৃষি রাসায়নিক ও কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত কর উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে কৃষকদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে বলে তার মন্তব্য।

শ্রীলঙ্কায় অতিরিক্ত চাল আমদানি, অবিক্রীত ধানের মজুত এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কৃষি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে কৃষক সংগঠনটির দাবি।