শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ বেশ কয়েকজন নেতা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভস্থল থেকে কংগ্রেসের একাধিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করে কংগ্রেস।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরছে। কিন্তু সরকার জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত ‘নৃশংসতার’ জবাব চাইতেই কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহি করতে চায় না, এমনকি সংসদেও আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায় রয়েছে এবং তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত।

এনইইটি ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা
এই বিক্ষোভের আগের দিন এনইইটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল এগোতে না দেওয়ায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের মতপ্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই প্রথম কোনো বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত সরকারি বাসভবনের সামনে সরাসরি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, পুরো ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কংগ্রেসও দীর্ঘদিন ধরে একই বিষয় তুলে ধরছে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















