যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
কোন কোন পণ্যে বাড়ছে শুল্ক
নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় কানাডার মদ, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ কয়েকটি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ কিছু পণ্য এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে স্বাক্ষরের ৩০ দিন পর। এতে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসবে।
কেন এই পদক্ষেপ
হোয়াইট হাউসের দাবি, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডায় উৎপাদন উৎসাহিত করা এবং কয়েকটি প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে প্রায় ৩৮৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। নতুন শুল্ক সেই আমদানির তুলনায় সীমিত অংশে প্রযোজ্য হলেও এটি দুই দেশের চলমান বাণিজ্যিক বিরোধকে আরও গভীর করতে পারে।
এদিকে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নতুন করে আলোচনা চলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিবেশও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কানাডার প্রতিক্রিয়া
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একতরফা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যা সমাধানে কানাডা ইতোমধ্যে একাধিক বিস্তারিত প্রস্তাব দিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত।
তার মতে, এই বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব দুই দেশের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক কার্যকর করলে কানাডারও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা উচিত।
অন্যদিকে ট্রাম্প অতীতেও কানাডার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এবারও তিনি জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন শুল্ক প্রত্যাহারের সুযোগ থাকতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















