ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বাগতিক শহরে টুর্নামেন্ট চলাকালে দেশি-বিদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার ও খুচরা ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, কানসাস সিটি, ডালাস ও হিউস্টনের মতো শহরগুলো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক টেনেছে।
কম পরিচিত শহরেই বেশি লাভ
বিশ্বকাপের আগে ধারণা ছিল নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরগুলোই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তবে বাস্তবে তুলনামূলক কম আলোচিত কয়েকটি শহরে ব্যবসা ও পর্যটনের উল্লম্ফন বেশি চোখে পড়েছে। ফিলাডেলফিয়ার বহু রেস্তোরাঁ ও পানশালায় প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উপচে পড়া।
একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে দর্শক সমাগম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও খেলা শুরু হওয়ার পর সেই আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই খাবার ও পানীয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বাড়তি চাহিদার কারণে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাড়তি আয়
বিশ্বকাপ চলাকালে হোটেল খাত ছিল সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি। ম্যাচের দিনগুলোতে কক্ষ ভাড়ার দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ, কফিশপ ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতেও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংক কার্ডে ভোক্তাদের ব্যয়ের হিসাবেও দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুন মাসে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে খাবারের দোকান ও সরাসরি খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি ছিল।
ইউরোপীয় সমর্থকদের ভিড়
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকদের কারণে কয়েকটি শহরে আগাম বিমান বুকিংও বেড়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, কানসাস সিটি, ডালাস ও হিউস্টনে এই প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। তবে সব শহরে একই চিত্র দেখা যায়নি। কিছু বড় শহরে আগাম বুকিং তুলনামূলক কম ছিল।
কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন নয়
বিশ্বকাপ ঘিরে কর্মসংস্থানের বড় উল্লম্ফনের আশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রভাব তেমন স্পষ্ট হয়নি। অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেখা যায়নি। ফলে অর্থনীতির সব খাতে সমান ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।
অর্থনীতি নাকি উৎসবের আনন্দ?
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসর শহরগুলোকে আনন্দ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক লাভ সব সময় প্রত্যাশামাফিক হয় না। অনেক সময় সাধারণ পর্যটকেরা ভিড় এড়িয়ে অন্য গন্তব্য বেছে নেন, ফলে সামগ্রিক লাভ সীমিত থেকে যেতে পারে।
তবুও ফিলাডেলফিয়াসহ কয়েকটি শহরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভোক্তা ব্যয় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বকাপ তাদের জন্য নতুন ক্রেতা, বাড়তি আয় এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি—সব মিলিয়ে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















