১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট

কর্মী সংকট সামলাতে বড় ভরসা হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা ছিল, এই প্রযুক্তির কারণে অনেক মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিশ্লেষণ বলছে, আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ঠিক উল্টোটি। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় দেশটি নজিরবিহীন শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মী সংকটের নতুন বাস্তবতা

জনসংখ্যা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর প্রবেশের গতি দীর্ঘদিন ধরেই কমছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও হ্রাস পেতে পারে। ফলে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মজুরি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রভাবও বাড়তে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কর্মী সংকট বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে, যা কম জনবল দিয়ে বেশি কাজ করার সুযোগ দেয়। সেই কারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয়ে বেশিরভাগেরই একমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। অর্থাৎ একই সংখ্যক কর্মী দিয়ে আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, যা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

Why AI Might Actually Help Solve the Next Labor Crisis - WSJ

জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রভাব

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অতীতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ার পেছনে নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অভিবাসনের বড় ভূমিকা ছিল। তবে বর্তমানে এই দুটি প্রবণতার গতি অনেকটাই কমেছে। অন্যদিকে জন্মহারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন কর্মীর সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে এই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নতুন পথ

অর্থনীতিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে তরুণ কর্মীর সংকট তৈরি হয়, সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করে। এর ফলে নতুন উদ্ভাবন বাড়ে, উৎপাদনশীলতা উন্নত হয় এবং কর্মীদের আয়ও বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি সব সময় অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক নয়। বরং সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে কর্মী সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।

কর্মী সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি

কর্মী সংকট সামলাতে বড় ভরসা হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

০৬:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা ছিল, এই প্রযুক্তির কারণে অনেক মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিশ্লেষণ বলছে, আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ঠিক উল্টোটি। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় দেশটি নজিরবিহীন শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মী সংকটের নতুন বাস্তবতা

জনসংখ্যা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর প্রবেশের গতি দীর্ঘদিন ধরেই কমছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও হ্রাস পেতে পারে। ফলে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মজুরি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রভাবও বাড়তে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কর্মী সংকট বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে, যা কম জনবল দিয়ে বেশি কাজ করার সুযোগ দেয়। সেই কারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয়ে বেশিরভাগেরই একমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। অর্থাৎ একই সংখ্যক কর্মী দিয়ে আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, যা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

Why AI Might Actually Help Solve the Next Labor Crisis - WSJ

জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রভাব

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অতীতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ার পেছনে নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অভিবাসনের বড় ভূমিকা ছিল। তবে বর্তমানে এই দুটি প্রবণতার গতি অনেকটাই কমেছে। অন্যদিকে জন্মহারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন কর্মীর সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে এই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নতুন পথ

অর্থনীতিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে তরুণ কর্মীর সংকট তৈরি হয়, সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করে। এর ফলে নতুন উদ্ভাবন বাড়ে, উৎপাদনশীলতা উন্নত হয় এবং কর্মীদের আয়ও বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি সব সময় অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক নয়। বরং সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে কর্মী সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।

কর্মী সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।