ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল ভ্যালিতে প্রস্তাবিত ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ডেটা সেন্টার প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শুধু প্রকল্পের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত প্রভাবই নয়, এর উদ্যোক্তা সেবাস্টিয়ান রুচ্চির অতীত আইনি ইতিহাসও এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
অতীতের রেকর্ডে বাড়ছে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পারেন, ডেটা সেন্টার প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা ভূমি-ব্যবহার আইনজীবী সেবাস্টিয়ান রুচ্চি অতীতে একটি নাইটক্লাবের মালিক ছিলেন। সেই সময় অর্থপাচার ও পতিতাবৃত্তি উৎসাহিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যদিও তিনি এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হননি। পরে তিনি একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করেন, যা নিয়েও ফেডারেল তদন্ত হয়েছিল। তবে সেই তদন্তেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এই অতীত সামনে আসতেই প্রকল্প অনুমোদনের আগে কর্তৃপক্ষ কীভাবে উদ্যোক্তাদের যাচাই করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের নতুন প্রতিযোগিতা
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। এই খাতে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন সুযোগ খুঁজছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রকল্পও সেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রুচ্চির দাবি, অতীতে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করেছে। বিরোধিতা মোকাবিলায় তিনি পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ নন বলেও মন্তব্য করেছেন।
পানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ
প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই ডেটা সেন্টার প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার। মরুভূমি অঞ্চলের এই এলাকায় কৃষিকাজ অনেকটাই নির্ভরশীল নদীর পানির ওপর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিশাল ডেটা সেন্টার চালু হলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এ কারণে রাজ্য পর্যায়েও ডেটা সেন্টার নির্মাণে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় প্রকল্প উদ্যোক্তাদের বহনের প্রস্তাবও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সমর্থন কমছে
শুরুতে স্থানীয় প্রশাসন প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছিল। সম্ভাব্য কর আয় এবং বিপুল কর্মসংস্থানের আশায় অনেকেই এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতা বাড়তে থাকে।
চাপের মুখে স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে নতুন ডেটা প্রকল্পে ৪৫ দিনের বিরতি ঘোষণা করে। পরে সেই স্থগিতাদেশ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রুচ্চি।
বিরোধিতায় সক্রিয় বাসিন্দারা
প্রকল্পের বিরোধিতায় স্থানীয় বাসিন্দারা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা ছিল না। একই সঙ্গে পরিবেশগত পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া এত বড় প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া উচিত নয় বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে রুচ্চির বক্তব্য, তিনি ইতোমধ্যে নিজের প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছেন এবং কোনো অবস্থাতেই এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তার ভাষায়, দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পরও তিনি ডেটা সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















