জাম্বিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দেশটির ইতিহাসে প্রথম শ্বেতাঙ্গ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গাই স্কট মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, কৃষি, গবেষণা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আফ্রিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় তৈরি করেন।
অপ্রত্যাশিত নেতৃত্বের উত্থান
গাই স্কট ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি ৯০ দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের দুই দশকের মধ্যে আফ্রিকার একমাত্র শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে তার ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছিল। বিরোধীরা তার পারিবারিক শিকড়কে সামনে এনে নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপরও তিনি শান্তিপূর্ণভাবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের পথ সুগম করেন।
কৃষি থেকে রাজনীতির শীর্ষে
ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হলেও গাই স্কট স্বাধীনতার পর জাম্বিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। কেমব্রিজে অর্থনীতি পড়ার পর তিনি কৃষিকাজে যুক্ত হন এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান।
পরবর্তীতে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তীব্র খরার সময় জরুরি খাদ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়ে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই অবদানের জন্য তিনি দেশজুড়ে প্রশংসিত হন।
স্পষ্টভাষী ও ব্যতিক্রমী রাজনীতিক
গাই স্কট ছিলেন স্পষ্টভাষী এবং রসবোধসম্পন্ন একজন রাজনীতিক। বর্ণপরিচয়ের চেয়ে জাতীয় পরিচয় ও সম্মিলিত রাষ্ট্রগঠনের ধারণাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। বিভিন্ন সময়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রসিকতার সুরে বলেছিলেন, সবাই ধীরে ধীরে তাকে ‘মহামান্য’ বলে সম্বোধন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তিনিও সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।
শিক্ষা ও ব্যক্তিজীবন
১৯৪৪ সালে জাম্বিয়ার লিভিংস্টোনে জন্ম নেওয়া গাই স্কট কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি অধ্যয়নের পর যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়েও কাজ করেন। কর্মজীবনের নানা পর্যায়ে তিনি কৃষক, গবেষক, শিক্ষক এবং রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
তার মৃত্যুতে জাম্বিয়ার রাজনীতি এমন একজন নেতাকে হারাল, যিনি প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে দেশের প্রতি অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















