ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, নীট এবং শিক্ষার্থী আন্দোলন-সংক্রান্ত সব বিষয় সংসদে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন করতে সরকার পুলিশি শক্তি ব্যবহার করেছে। তাঁর ভাষায়, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবেন না।
এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং কে সি ভেনুগোপালসহ দলের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান শুরু হলেও পরে বিক্ষোভকারীদের রাজাজি মার্গে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংসদে আলোচনার প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, সরকার রাহুল গান্ধীকে অনুরোধ করেছিল যাতে তিনি অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন, কারণ ওই এলাকা বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয় এবং এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, রাহুল গান্ধী প্রথমে বলেন, সরকার যদি সংসদে নীট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়, তাহলে তিনি অবস্থান তুলে নেবেন। পরে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে জানানো হয় যে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত।
তবে মন্ত্রীর অভিযোগ, এরপর রাহুল গান্ধী নতুন করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নিশ্চয়তা চান। তাঁর ভাষায়, একজন বিরোধীদলীয় নেতার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসা গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও কংগ্রেস এখন পর্যন্ত সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক আলোচনার নোটিশ দেয়নি।

রাহুলের পাল্টা অভিযোগ
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করতে চাইলেও লোকসভার স্পিকার সরকারকে জিজ্ঞেস না করে আলোচনা অনুমোদন দিতে পারেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং দেশের তরুণদের জন্য সুযোগের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর শাসকদল-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের প্রভাব বেড়েছে এবং সরকার শিক্ষার্থীদের চেয়ে শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
কংগ্রেসের অবস্থান
সরকার সংসদে আলোচনা করতে রাজি হলেও কংগ্রেসের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দলটি শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অভিযানের দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে।
রাহুল গান্ধী পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা ও কে সি ভেনুগোপালকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে সংঘর্ষে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেন। এরপর তিনি আবার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে লিখিতভাবে নিজেদের দাবি জমা দিয়েছেন। দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়া হলেও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ সময় জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হাসপাতালের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান এবং নীট ইস্যুতে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব ঘিরে সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















