রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, রাশিয়ার সাধারণ মানুষের ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়েছে।
ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে বড় ক্ষতি
মধ্য রাশিয়ার ইলেকট্রোস্টাল ও তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক এলাকায় থাকা দুটি বড় গুদামে শনিবার রাতে হামলা চালানো হয়। হামলার পর আগুন প্রায় দুই দিন ধরে জ্বলতে থাকে এবং এর ধোঁয়া অনেক দূর থেকে দেখা যায়।
হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুদামগুলোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অনলাইন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম, যেখানে হাজার হাজার ব্যবসায়ী তাদের পণ্য বিক্রি করেন। হামলার কারণে অনেক ছোট উদ্যোক্তাও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
যুদ্ধের প্রভাব থেকে নাগরিকদের রক্ষা কঠিন হচ্ছে
ইউক্রেনের এই ধরনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার ভেতরের এলাকাগুলোতেও যুদ্ধের বাস্তবতা পৌঁছে দিচ্ছে। এর ফলে ক্রেমলিনের সেই প্রচেষ্টা দুর্বল হচ্ছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধের প্রভাব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা হামলাগুলোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, এসব স্থাপনা শুধু বাণিজ্যিক কাজে নয়, সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
পাল্টা হামলায় কিয়েভে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ওয়াইল্ডবেরিজে হামলার পর রাশিয়াও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র, আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে এখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে
ওয়াইল্ডবেরিজের ক্ষতিগ্রস্ত গুদামগুলো রাশিয়ার বড় সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মোট সরবরাহ সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেক বিক্রেতা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, যুদ্ধের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠছে এবং এক মুহূর্তে তাদের বহু মাসের বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ সুবিধা ও অর্থ পরিশোধে সময় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আকাশযুদ্ধ নতুন কৌশলের অংশ
যুদ্ধের পঞ্চম বছরে স্থল অভিযান ধীর হয়ে গেলেও আকাশপথে হামলা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। দুই দেশই এখন জ্বালানি স্থাপনা, পরিবহন ব্যবস্থা ও বড় বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার একটি বড় উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ও জনমনে চাপ তৈরি করা। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রাতেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















