আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া মানুষের জন্য আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত চালুর দাবিতে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে জবাব তলব করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আপিলের সুযোগ কার্যকর না হওয়ায় বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের পদক্ষেপ
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের জন্য আইনে আপিলের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। এর ফলে বহু মানুষ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
শুনানি শেষে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার, আসাম সরকার এবং রাজ্যের নাগরিকপঞ্জি সমন্বয়কের দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। একই ধরনের আরেকটি বিচারাধীন আবেদনের সঙ্গে এই মামলাটিও একসঙ্গে শুনানির জন্য যুক্ত করা হয়েছে।

১৯ লাখের বেশি মানুষ তালিকার বাইরে
আসামের হালনাগাদ চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ১৯ লাখেরও বেশি আবেদনকারী তালিকার বাইরে থেকে যান, যা নিয়ে তখন থেকেই ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি লড়াই চলছে।
নাগরিকপঞ্জির উদ্দেশ্য ছিল আসামের প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের শনাক্ত করা। কিন্তু বাদ পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের আইনি অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে।
পরিচয়পত্র দেওয়ারও দাবি
আবেদনকারীরা আদালতের কাছে আরও একটি নির্দেশনা চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, যাঁদের নাম চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জিতে রয়েছে, তাঁদের নাগরিকত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হোক। এতে নাগরিকত্ব নিয়ে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কমবে এবং প্রশাসনিক জটিলতাও হ্রাস পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নাগরিকপঞ্জি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর থাকবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















