মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়কদের তীব্র বিক্ষোভ ও আপত্তির মধ্যেই রাজ্যের বিধানসভায় কণ্ঠভোটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস হয়েছে। বিলটি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয় এবং অধিবেশনের বিভিন্ন সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিলে কী রয়েছে
নতুন আইনে বহুবিবাহ এবং নিকাহ হালালাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিবাহ ছাড়া একসঙ্গে বসবাসের সম্পর্ক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। তবে রাজ্যের বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দাবি করেন, এই আইন সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে বিলটির বিরোধিতা করছে। তিনি বলেন, সকল নাগরিকের জন্য একই আইন প্রয়োগই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ এবং নারীদের অধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কংগ্রেসের আপত্তি
অন্যদিকে কংগ্রেস বিধায়করা দাবি করেন, বিলটি সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে সংস্কৃতি ও শিক্ষাসংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের দাবি ছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল সরাসরি পাস না করে তা একটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।
বিরোধী সদস্যদের অভিযোগ, তাদের উত্থাপিত সংশোধনী ও মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, এই আইন বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আনা হয়েছে, যা তারা মেনে নিতে পারছে না।

উত্তপ্ত অধিবেশন
বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে কয়েক দফা অধিবেশন মুলতবি করতে হয়। সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল আগামী দিনে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিলের বিভিন্ন বিধান এবং তা নিয়ে শাসক-বিরোধী অবস্থান আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















