প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্র সরকার ও ক্ষমতাসীন দল অভিযোগ করেছে, আলোচনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী বারবার নিজের দাবি পরিবর্তন করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের আন্দোলন ঘিরে দিল্লি পুলিশ একাধিক নেতাকে আটক করে।
দাবি বদলের অভিযোগ
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথমে রাহুল গান্ধী নিট প্রশ্নফাঁস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হন। সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে ফিরে গেলে তিনি পরে নতুন করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন।
কেন্দ্রের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে আলোচনার পথ জটিল হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থের পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সংসদীয় আলোচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্লোগান বা রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আপত্তি
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনের এলাকা উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ায় সেখানে অবস্থান কর্মসূচি অনুমোদিত নয়। এ কারণেই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, তিনি দেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধান। তাই তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমা অতিক্রম করেছে বলে তাদের দাবি।
বিরোধী নেতাদের আটক
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের বাইরে যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, তেমনি নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়েও সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের তদন্ত, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয় এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















