দীর্ঘ ২৪ দিনের অনশনের মধ্যে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। আদালত জানিয়েছে, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসার গুরুত্ব
অনশনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক টানা ২৪ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ চিকিৎসকদের মতামত পর্যালোচনা করে জানায়, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার জন্য নিয়মিত ও নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। সেই কারণে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার নির্দেশ
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, একজন নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় দ্রুত তাঁকে উন্নত চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, চিকিৎসকদের নির্ধারিত বিধি মেনে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো যেন প্রয়োজনমতো তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের মানসিক সহায়তাও নিশ্চিত হবে বলে আদালত মনে করেছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাঁর স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
সোনম ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে আদালতের এই নির্দেশ অনশনরত অবস্থায় চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















