চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান লিনাসের ওপর। মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভারী বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে উৎপাদনে কিছুটা ধাক্কা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে
লিনাস জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় নতুন ভারী বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণে আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৮ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হবে। ফলে প্রকল্পটির মোট সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে।
প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী জানান, এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো চীনের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশি খরচ হওয়া। পাশাপাশি পণ্যের বিশুদ্ধতার মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত করতে হয়েছে।
চীনের নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ
বিশ্বজুড়ে মোটরগাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্পে বিরল খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের রপ্তানি সীমাবদ্ধতা বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
লিনাসের ভাষ্য, চীনের বাইরে একই মানের শিল্পযন্ত্র প্রস্তুতকারক খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। ফলে নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সময় এবং অতিরিক্ত অর্থ দুটিই ব্যয় করতে হয়েছে।
উৎপাদনে সাময়িক ধাক্কা
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার খনিতে নতুন উত্তোলন এলাকায় প্রবেশের পর আকরিকের মানে পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব পড়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমে। ফলে পরবর্তী ধাপে উৎপাদনের জন্য কাঁচামালের সরবরাহ কমে যায়।
এর ফল হিসেবে তিন মাসে নিওডিমিয়াম-প্রাসিওডিমিয়াম উৎপাদন আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৫৭ টনে নেমে এসেছে। তবে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যুৎ সমস্যাও বাড়িয়েছে চ্যালেঞ্জ

অস্ট্রেলিয়ার কালগুর্লি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিত সমস্যা রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো গড়ে মাসে একবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলছে।
দাম বাড়ায় আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন
উৎপাদন কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বিরল খনিজের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির গড় বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে প্রতি কেজির গড় বিক্রয়মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে মোট বিক্রয় আয়ও প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজের শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে জোর
লিনাস ইতোমধ্যে ভারী বিরল খনিজ উৎপাদন শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে সামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, ইট্রিয়াম ও লুটেশিয়ামের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিরক্ষা, চিকিৎসা এবং উন্নত শিল্পপ্রযুক্তিতে এসব খনিজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্ববাজার এখন বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে রয়েছে। চীনের সম্ভাব্য নতুন রপ্তানি সীমাবদ্ধতা কার্যকর হলে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















