যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ স্টিল রাষ্ট্রায়ত্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে চীনের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই ইস্যু তার সরকারের জন্য বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সিদ্ধান্তে বাড়ছে বিরোধ
যুক্তরাজ্য সরকার দেশটির ইস্পাত উৎপাদনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ব্রিটিশ স্টিলকে রাষ্ট্রায়ত্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির চীনা মালিকানা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের পর চীনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত শিল্পের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামোতে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়টি এখন আরও বেশি নজরদারির আওতায় আসছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা
অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে দেশের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা, অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা—এই দুই লক্ষ্যকে সমন্বয় করতে হবে তার সরকারকে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইস্পাত শিল্প নিয়ে এই বিরোধ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগত শিল্পে বিদেশি অংশীদারিত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
চীন ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মুখে রয়েছে। ব্রিটিশ স্টিলকে ঘিরে নতুন এই বিরোধ সেই চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর থাকবে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে পারে কি না এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা পড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















