চীনের মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যারে যত দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে, বাস্তব জগতে কাজ করতে সক্ষম বুদ্ধিমান রোবটের ক্ষেত্রে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনও অন্তত দুই থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
বাস্তব দুনিয়ায় রোবটের বড় চ্যালেঞ্জ
ইউনিট্রির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যারে অসাধারণ দক্ষতা দেখালেও বাস্তব পরিবেশে রোবট পরিচালনা করা অনেক বেশি জটিল। কারণ একটি রোবটকে বিভিন্ন পরিবেশ, বাধা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি একসঙ্গে বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই সক্ষমতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু নির্দেশ বুঝলেই হবে না, সেই নির্দেশকে বাস্তব কাজে রূপ দিতে হবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে। এ ক্ষেত্রেই এখনও বড় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

প্রদর্শনীতে সফল, কর্মক্ষেত্রে এখনও সীমিত
ইউনিট্রি ইতোমধ্যে সমন্বিত নৃত্য, যুদ্ধকলার প্রদর্শনীসহ নানা কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। এসব প্রদর্শনী দেখিয়েছে যে রোবটের যান্ত্রিক সক্ষমতা অনেক উন্নত হয়েছে এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের ভিত্তিও তৈরি হচ্ছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এসব প্রদর্শনী এখনও প্রমাণ করে না যে রোবট দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মতো জটিল উৎপাদনশীল কাজ করতে পারবে। বর্তমানে বেশিরভাগ রোবটই নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও সীমিত।
গবেষণাতেই বেশি চাহিদা
ইউনিট্রির তথ্য অনুযায়ী, তাদের মানবসদৃশ রোবটের প্রধান ক্রেতা এখনও গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিল্প খাতে ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছর পর্যন্ত মূলত পরীক্ষামূলক ব্যবহারই চলবে। এরপর ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন খাতে রোবটের ব্যবহার বাড়তে পারে। ২০৩০ সালের পর মানুষের পাশাপাশি নানা সাধারণ শ্রমনির্ভর কাজে রোবটকে আরও বেশি দেখা যেতে পারে বলে তারা আশা করছে।
নতুন বিনিয়োগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায়
ইউনিট্রি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন অর্থায়নের বড় একটি অংশ বাস্তব জগতে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি নতুন যন্ত্রাংশ উন্নয়ন এবং উৎপাদন কারখানা সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এমন একটি রোবট তৈরি করা যা বাড়ি, অফিস ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন পরিবেশে আলাদা করে প্রোগ্রাম না করেই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতাও কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবসদৃশ রোবট শিল্পে আগ্রহ বাড়লেও প্রযুক্তির পরবর্তী বড় অগ্রগতির জন্য আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দ্রুততর গণনাক্ষমতা এবং কম খরচে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















