০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
পর্যটক আনলে মিলবে তিন হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা, বাসিন্দাদের জন্য নতুন উদ্যোগ দুবাইয়ের তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ওজি অসবোর্নকে স্মরণে শ্যারনের আবেগঘন বার্তা, ‘জোরে গান বাজিয়ে তাকে মনে রাখুন’ ইবোলা আশঙ্কায় কঙ্গো থেকে লন্ডনে আনা মানবিক সহায়তাকর্মী, কড়া পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা নারী সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, আহত অন্তত ১০ কালো পোশাকে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ, দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার ১৫ বছরের কম শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, নতুন আইন পাস করল ফ্রান্স আলিঙ্গন আর চুমুতেই শান্তি বজায় রাখে বনমানুষ, বলছে নতুন গবেষণা চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান বেইজিংয়ের

ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বেড়েছে, উদ্বেগে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাত

বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও, সেই খনিজ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির দ্রুত বিস্তৃত নিকেল শিল্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের সংখ্যায় সবার ওপরে ইন্দোনেশিয়া

প্রতিবেদনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৪টি দেশে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ৩২৬টি মানবাধিকার ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই ৯৬টি অভিযোগ উঠেছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। এরপর রয়েছে কঙ্গো, মিয়ানমার, সার্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ এবং দ্রুত শিল্পায়নের ফলে উৎপাদন বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে শ্রমিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

Electric Vehicle Market: Nickel's Critical Role

নিকেল শিল্প ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং স্টেইনলেস ইস্পাত তৈরিতে নিকেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নিকেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনা, প্রাণহানি এবং শিল্পবর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

প্রাণহানি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ

২০২৩ সালে মধ্য সুলাওয়েসির একটি নিকেল গলন কারখানায় বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় খনিশিল্পের বর্জ্য সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনার কারণে মাটি ও পানিদূষণের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে উৎপন্ন বর্জ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলজ পরিবেশের ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

Allegations of harms at China-backed transition minerals projects rise

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

পরিবেশ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, প্রকল্পের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে দুর্ঘটনা, পানি দূষণ এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, শিল্পসংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মান উন্নত করার চেষ্টা করছে। যদিও সমালোচকদের মতে, এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে নতুন প্রশ্ন

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব না দিলে এই শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যটক আনলে মিলবে তিন হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা, বাসিন্দাদের জন্য নতুন উদ্যোগ দুবাইয়ের

ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বেড়েছে, উদ্বেগে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাত

০২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও, সেই খনিজ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির দ্রুত বিস্তৃত নিকেল শিল্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের সংখ্যায় সবার ওপরে ইন্দোনেশিয়া

প্রতিবেদনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৪টি দেশে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ৩২৬টি মানবাধিকার ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই ৯৬টি অভিযোগ উঠেছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। এরপর রয়েছে কঙ্গো, মিয়ানমার, সার্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ এবং দ্রুত শিল্পায়নের ফলে উৎপাদন বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে শ্রমিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

Electric Vehicle Market: Nickel's Critical Role

নিকেল শিল্প ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং স্টেইনলেস ইস্পাত তৈরিতে নিকেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নিকেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনা, প্রাণহানি এবং শিল্পবর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

প্রাণহানি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ

২০২৩ সালে মধ্য সুলাওয়েসির একটি নিকেল গলন কারখানায় বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় খনিশিল্পের বর্জ্য সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনার কারণে মাটি ও পানিদূষণের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে উৎপন্ন বর্জ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলজ পরিবেশের ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

Allegations of harms at China-backed transition minerals projects rise

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

পরিবেশ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, প্রকল্পের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে দুর্ঘটনা, পানি দূষণ এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, শিল্পসংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মান উন্নত করার চেষ্টা করছে। যদিও সমালোচকদের মতে, এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে নতুন প্রশ্ন

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব না দিলে এই শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।