০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
পর্যটক আনলে মিলবে তিন হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা, বাসিন্দাদের জন্য নতুন উদ্যোগ দুবাইয়ের তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ওজি অসবোর্নকে স্মরণে শ্যারনের আবেগঘন বার্তা, ‘জোরে গান বাজিয়ে তাকে মনে রাখুন’ ইবোলা আশঙ্কায় কঙ্গো থেকে লন্ডনে আনা মানবিক সহায়তাকর্মী, কড়া পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা নারী সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, আহত অন্তত ১০ কালো পোশাকে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ, দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার ১৫ বছরের কম শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, নতুন আইন পাস করল ফ্রান্স আলিঙ্গন আর চুমুতেই শান্তি বজায় রাখে বনমানুষ, বলছে নতুন গবেষণা চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান বেইজিংয়ের

ট্রাম্পের অনুমোদনে সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজস্ব অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হতে পারে ৩০ বছর। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির উন্নয়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কংগ্রেসে বিতর্কের আশঙ্কা

Nuclear deal that would permit uranium enrichment by Saudi Arabia in limbo  awaiting Trump admin sign-off | CNN Politics

এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় ব্যাপক পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্য। সংস্থাটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অসামরিক পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে এবং গোপনে অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে রাখে।

তবে আলোচনায় থাকা চুক্তিতে সংস্থার অতিরিক্ত পরিদর্শন ও যাচাইব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না-ও থাকতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাদশাহ আবদুল্লাহকে খুন করতে চেয়েছিলেন,  বলেছেন সাবেক এক কর্মকর্তা - BBC News বাংলা

এই উদ্যোগ এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিজেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সমান নয়, তবে প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে এটি ভবিষ্যতে অস্ত্র কর্মসূচির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটার কথা বিবেচনা করতে পারে। এ কারণেই নতুন এই চুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে এসেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি করলেও তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করার অঙ্গীকার করেছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে সেই মডেলটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাব নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হলেও, এর সম্ভাব্য নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যটক আনলে মিলবে তিন হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা, বাসিন্দাদের জন্য নতুন উদ্যোগ দুবাইয়ের

ট্রাম্পের অনুমোদনে সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজস্ব অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হতে পারে ৩০ বছর। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির উন্নয়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কংগ্রেসে বিতর্কের আশঙ্কা

Nuclear deal that would permit uranium enrichment by Saudi Arabia in limbo  awaiting Trump admin sign-off | CNN Politics

এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় ব্যাপক পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্য। সংস্থাটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অসামরিক পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে এবং গোপনে অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে রাখে।

তবে আলোচনায় থাকা চুক্তিতে সংস্থার অতিরিক্ত পরিদর্শন ও যাচাইব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না-ও থাকতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাদশাহ আবদুল্লাহকে খুন করতে চেয়েছিলেন,  বলেছেন সাবেক এক কর্মকর্তা - BBC News বাংলা

এই উদ্যোগ এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিজেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সমান নয়, তবে প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে এটি ভবিষ্যতে অস্ত্র কর্মসূচির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটার কথা বিবেচনা করতে পারে। এ কারণেই নতুন এই চুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে এসেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি করলেও তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করার অঙ্গীকার করেছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে সেই মডেলটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাব নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হলেও, এর সম্ভাব্য নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।