মানুষের মতোই বনমানুষও কঠিন পরিস্থিতির আগে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, স্পর্শ করে কিংবা চুমু দিয়ে মানসিক ভরসা দেয়। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই আচরণ কেবল আবেগের প্রকাশ নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং সংঘাত কমানোর একটি প্রাচীন সামাজিক কৌশল।
চাপের মুহূর্তে বাড়ে পারস্পরিক স্পর্শ
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতার মতো চাপপূর্ণ পরিস্থিতির আগে শিম্পাঞ্জি ও বনোবো একে অপরকে আলিঙ্গন করে, স্পর্শ করে এবং চুমু দেয়। এমনকি কিছু শিম্পাঞ্জিকে একে অপরের মুখে আঙুল রাখতেও দেখা গেছে, যা গবেষকদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণ দলগত ঐক্যকে শক্তিশালী করে এবং সবাইকে একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। এটি অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ খেলায় নামার আগে একটি দলের একসঙ্গে জড়ো হয়ে সাহস জোগানোর মতো।
শান্তিপূর্ণভাবে খাবার ভাগাভাগির প্রবণতা
গবেষণার অংশ হিসেবে বনমানুষদের এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে তারা জানত কিছুক্ষণ পর খাবার আসবে। খাবার আসার আগের কয়েক মিনিটে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা একে অপরকে বেশি স্পর্শ করেছে বা আলিঙ্গন করেছে, তারা পরে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসে খাবার খেতে পেরেছে। যেসব দলে সহনশীলতা বেশি ছিল, সেখানে একের পর এক একাধিক সদস্যের আলিঙ্গনের ঘটনাও বেশি দেখা গেছে।
মানুষের আচরণেরও প্রাচীন শিকড়
গবেষকদের ধারণা, স্পর্শের মাধ্যমে বিশ্বাস ও সহযোগিতা গড়ে তোলার এই প্রবণতা মানুষের জন্মেরও বহু আগে থেকে বিদ্যমান। মানুষ, শিম্পাঞ্জি ও বনোবোর অভিন্ন পূর্বপুরুষের সময় থেকেই এই সামাজিক আচরণের সূচনা হয়ে থাকতে পারে।
তাদের মতে, ভাষার উদ্ভবের আগেই স্পর্শ ছিল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই আজও মানুষ যখন চাপের মুহূর্তে কাঁধে হাত রাখে, কাউকে জড়িয়ে ধরে বা দলগতভাবে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সাহস জোগায়, তখন হয়তো লক্ষ লক্ষ বছরের পুরোনো সেই সামাজিক আচরণেরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
সামাজিক সম্পর্ক বোঝার নতুন দিক
গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পারস্পরিক স্পর্শ কেবল স্নেহ প্রকাশের উপায় নয়; এটি সহযোগিতা, বিশ্বাস এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিও হতে পারে। গবেষকদের আশা, এই ফলাফল মানুষের সামাজিক আচরণ ও সম্পর্কের বিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিতে সহায়তা করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















