সমুদ্রের সবচেয়ে বড় মাছ তিমি হাঙরকে এতদিন মূলত পানির ওপরের স্তরে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে গবেষকেরা প্রথমবারের মতো তিমি হাঙরের চোখে দেখা সমুদ্রের গভীর জগত পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গভীর সমুদ্রে নতুন আবিষ্কার
গবেষণায় তিমি হাঙরের পৃষ্ঠপাখনায় ছোট আকারের ক্যামেরা বসানো হয়। ক্যামেরাগুলো প্রায় একদিন ধরে তাদের চলাফেরা ও খাদ্য সংগ্রহের দৃশ্য ধারণ করে। পরে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে ভেসে ওঠে, ফলে প্রাণীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিমি হাঙর শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠেই নয়, প্রায় ৭০ মিটার গভীর পর্যন্ত নেমে বিভিন্ন কৌশলে খাদ্য সংগ্রহ করে। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, তারা প্রধানত ওপরের স্তরেই খাদ্য গ্রহণ করে। নতুন তথ্য সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে।
একাধিক কৌশলে খাদ্য সংগ্রহ
গবেষকেরা তিমি হাঙরের অন্তত ৩৬ ধরনের খাদ্য সংগ্রহের আচরণ শনাক্ত করেছেন। কখনও তারা ধীরে ধীরে মুখ খোলা রেখে সমুদ্রতলের কাছাকাছি ভেসে খাদ্য গ্রহণ করে, আবার কোথাও প্রচুর ক্ষুদ্র প্রাণী একসঙ্গে পেলে দ্রুত গতিতে ছুটে গিয়ে শিকার ধরে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় তারা কম শক্তি ব্যয় করে খাদ্য সংগ্রহ করে। তবে সুযোগ পেলে দ্রুতই সক্রিয় শিকারে নেমে পড়ে। এই কৌশল তাদের কম খাদ্যসমৃদ্ধ উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে টিকে থাকতে সহায়তা করে।
![]()
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
সমুদ্রে খাদ্যের প্রাপ্যতা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তাই তিমি হাঙরের খাদ্য সংগ্রহের এই বৈচিত্র্যময় কৌশল সম্পর্কে জানা তাদের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
তাদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি তিমি হাঙরের গায়ে ক্যামেরা বসানো গেলে এই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীর জীবনযাপন সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা সম্ভব হবে।
সমুদ্রের বৃহত্তম মাছ সম্পর্কে নতুন ধারণা
গবেষণার ফলাফল বলছে, তিমি হাঙর পরিস্থিতি অনুযায়ী খাদ্য সংগ্রহের ধরন বদলাতে সক্ষম। এই নমনীয় আচরণই সম্ভবত তাদের দীর্ঘদিন ধরে উষ্ণ সমুদ্রে সফলভাবে টিকে থাকার অন্যতম কারণ। নতুন এই পর্যবেক্ষণ সমুদ্রের বৃহত্তম মাছ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
সমুদ্রের বৃহত্তম মাছ তিমি হাঙরের গভীর সমুদ্রের খাদ্য সংগ্রহের নতুন কৌশল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। গবেষণায় মিলেছে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















