বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা বিমানবন্দরে ভিসা নিয়ে বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণে কোন দেশের নাগরিকরা কত বেশি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন, তা বিবেচনা করা হয়। নতুন সূচকে এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভ্রমণ সুবিধার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে।
শীর্ষে সিঙ্গাপুর, এগিয়ে এশিয়ার দেশগুলো
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। দেশটির নাগরিকদের জন্য ১৮৭টি গন্তব্যে সহজ ভ্রমণ সুবিধা রয়েছে।
চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে রয়েছে ইউরোপের ১১টি দেশ। বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেনের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধা পান।
বাংলাদেশের অবস্থান ও বৈশ্বিক চিত্র
সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের তালিকায় বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একই পর্যায়ে রয়েছে। ভ্রমণ সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখনো বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি মূলত সেই দেশের অর্থনীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। বৈশ্বিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়লে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানও উন্নত হতে পারে।
ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান
পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৫টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। তাদের নাগরিকরা ১৮৪টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
সপ্তম স্থানে যৌথভাবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। এসব দেশের পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৩টি দেশে ভ্রমণ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র দশম স্থানে
তালিকার দশম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও আইসল্যান্ড। উভয় দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮০টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ ভিসা ব্যবস্থায় যেতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভ্রমণ সুবিধার এই পার্থক্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী পাসপোর্ট একটি দেশের বৈশ্বিক অবস্থান ও নাগরিকদের আন্তর্জাতিক সুযোগের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















