ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আর এই পদে থাকার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ডান হাতে কালো ব্যান্ড পরে উপস্থিত হন। সংসদে বিরোধী জোটও এদিন কালো পোশাক ও কালো ব্যান্ড ধারণ করে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবিতে প্রতিবাদ জানায়।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অভিযোগ
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যেখানে অনিয়ম প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার দাবি, গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি বড় ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এত বিপুল সংখ্যক অনিয়মের পরও গত এক দশকে কার্যত কোনো দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা দণ্ড নিশ্চিত করা যায়নি।
রাহুলের ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলো সন্তানের শিক্ষার জন্য কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান রাহুল গান্ধী। তিনি তিনটি মূল দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন—
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বা বলপ্রয়োগে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
তবে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ সম্পর্কে তিনি তার বক্তব্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রসঙ্গ
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় পুলিশি হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হলেও এ বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে সরকারের প্রতি অসন্তোষের কথা তার কানে কানে বলেছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
রাহুল বলেন, তার সঙ্গে কী ঘটেছে, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ওপর যে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিই আলোচনার কেন্দ্র হওয়া উচিত।
বিক্ষোভের পর তাকে দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়। একই সময়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন কংগ্রেস সাংসদকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।
রাহুল গান্ধীর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনায় ব্যর্থ; প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও বিরোধীদের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















