চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের পরিবহনের চিত্র। এবার তাইওয়ানের প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উন্নত স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ধারণার চেয়েও দ্রুত বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
প্রত্যাশার আগেই আসতে পারে নতুন যুগ
বৈদ্যুতিক গাড়ি বিভাগের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জুন সেকির মতে, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা বাড়ছে এবং উৎপাদন ব্যয় ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর ফলে উন্নত স্বয়ংচালিত চালনা ব্যবস্থা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছাতে পারে।
তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ স্বয়ংচালিত ব্যবস্থার বিস্তার আগামী বছরগুলোতে দ্রুত গতি পাবে। বিশেষ করে এমন যানবাহন, যেগুলো অধিকাংশ পরিস্থিতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে সক্ষম, সেগুলোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ব্যয় কমা ও নির্ভরযোগ্যতা বড় ভূমিকা রাখবে
জুন সেকি বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমে যাওয়াই হবে এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সর এবং সফটওয়্যারের সক্ষমতা বাড়ায় স্বয়ংচালিত ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
তার মতে, এসব অগ্রগতির ফলে উন্নত স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি ধীরে ধীরে বিলাসবহুল গাড়ির সীমা ছাড়িয়ে সাধারণ বাজারেও ছড়িয়ে পড়বে।
দুই হাজার চল্লিশ সালের মধ্যে বড় পরিবর্তনের আশা
জুন সেকির মূল্যায়ন অনুযায়ী, দুই হাজার চল্লিশ সালের মধ্যে উন্নত স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির ব্যবহার মূলধারায় পরিণত হতে পারে। তখন মানুষের চালনার প্রয়োজন খুব সীমিত হয়ে যাবে এবং অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি নিজেই নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তবে এই পরিবর্তনের গতি নির্ভর করবে বিভিন্ন দেশের নীতিমালা, নিরাপত্তা মানদণ্ড, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতার ওপরও।
বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক ও স্বয়ংচালিত গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি নির্মাতারা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী স্বয়ংচালিত সমাধান তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে। ফলে আগামী দশকেই পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















