১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট, উড়োজাহাজে ৩০–৩৫ মিনিট ঘুমিয়েছিলেন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে উত্তপ্ত ভারতীয় সংসদ, অধিবেশন শেষ কাবেরীর পানি ছাড়ার প্রতিবাদে কর্ণাটকে বন্ধ, স্বাভাবিক জনজীবন বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ নারীর মৃত্যু, নয় দিন পর থামল জীবন আশুলিয়ায় ভাগনিকে কুপিয়ে হত্যা, পরে আত্মহত্যা করলেন মামা আমন মৌসুমে টিএসপি সারের সংকটে উত্তরের কৃষক শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ডিসকর্ডের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ ব্রাজিলের পিএসজি’র টানা দ্বিতীয় সুপার কাপ জয়, অ্যাস্টন ভিলাকে হারাল ২-১ গোলে শহর-গ্রামের শিক্ষায় বাড়ছে বৈষম্য, পিছিয়ে পড়ছে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা বিরল সূর্যগ্রহণে স্পেন-আইসল্যান্ডে উৎসবের আবহ, আকাশজুড়ে মুগ্ধতা

আমন মৌসুমে টিএসপি সারের সংকটে উত্তরের কৃষক

আমন ধান রোপণের ব্যস্ত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি সারের সংকটে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা দিতে রাজি হয়েও অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। বিশেষ করে চর ও নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের দূরের বাজারে গিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।

রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় এ সংকটের কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, সার মজুদের সামগ্রিক ঘাটতি নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টিএসপি ব্যবহারের প্রবণতাই সংকটের ধারণা তৈরি করছে।

ছয় দোকান ঘুরেও মিলল না প্রয়োজনীয় সার

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম আট বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১০০ কেজি টিএসপি সার। কিন্তু ছয়টি সারের দোকান ঘুরে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪৫ কেজি।

এর মধ্যে ১৫ কেজি সরকারি নির্ধারিত কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দরে কিনতে পারলেও বাকি ৩০ কেজির জন্য তাঁকে কেজিপ্রতি আরও ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।

আমন মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট, চিন্তায় কৃষক

নজরুল ইসলাম বলেন, ধানের শিকড় শক্ত করা এবং গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে টিএসপি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সময়মতো দিতে না পারলে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

তাঁর ভাষ্য, ইউরিয়া ও ডিএপি চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া গেলেও টিএসপি না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

চরে সংকট আরও তীব্র

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারীর কৃষক বাবলু মিয়া ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১৭০ কেজি টিএসপি। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র ৫০ কেজি।

বাবলু মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টিএসপি নেই বলে জানাচ্ছেন। বেশি দাম দিতে চাইলেও অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মন্নাফ মিয়াও একই সমস্যায় পড়েছেন। ১০ বিঘা জমির জন্য তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১৫০ কেজি টিএসপি। তিন দিন বিভিন্ন দোকানে ঘুরে তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র ৫০ কেজি। এর জন্য সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থও দিতে হয়েছে।

চাহিদা বাড়লেও বরাদ্দ কম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ব্যবসায়ী জুলহাস হোসেন জানান, তাঁর দোকানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার কেজি টিএসপির চাহিদা আসে। অথচ সরকার থেকে বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৫০০ কেজি।

সারের কৃত্রিম সংকট, চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে

তিনি বলেন, বরাদ্দ না বাড়ালে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন ধান। গত বছর এই অঞ্চলে ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছিল। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১৫২ হেক্টর।

অতিরিক্ত ব্যবহারের অভিযোগ কৃষি বিভাগের

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন চারা রোপণের সময় টিএসপি খুব বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অনেক কৃষক সুপারিশ করা মাত্রার চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি টিএসপি ব্যবহার করছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের টিএসপির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। অথচ ইউরিয়া ও ডিএপির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নয়, বরং সুপারিশকৃত কৃষি পদ্ধতি অনুযায়ী সারের প্রয়োজন নির্ধারণ করে সরকার বরাদ্দ দেয়। কৃষকেরা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী অতিরিক্ত টিএসপি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন সরবরাহের ওপর চাপ পড়ে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার মাটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

কৃষি বিভাগ সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জয়পুরহাটে সার সংকট, চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা

অক্টোবর পর্যন্ত মজুদ থাকার দাবি

রংপুর আঞ্চলিক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সার বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো অঞ্চলে সারের সামগ্রিক সংকট নেই। অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজন মেটানোর মতো সার মজুদ রয়েছে।

তিনি জানান, কৃষি বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে সার বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকারি নির্ধারিত খুচরা দামে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করা হয়।

তবে কোনো এলাকায় সার না পাওয়া গেলে বা বেশি দামে বিক্রি হলে সেটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি নজরদারিতে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি হিসাবে ইউরিয়ার দাম কেজিপ্রতি ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা এবং ডিএপি ২১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা প্রকৃত দামে সার পাচ্ছেন কি না, পর্যাপ্ত বরাদ্দ পৌঁছাচ্ছে কি না এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চাহিদা কতটা বাড়ছে—এসব বিষয় এখন আমন মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমন মৌসুমে টিএসপি সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ তাই শুধু সার পাওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; সময়মতো প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট, উড়োজাহাজে ৩০–৩৫ মিনিট ঘুমিয়েছিলেন

আমন মৌসুমে টিএসপি সারের সংকটে উত্তরের কৃষক

১১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আমন ধান রোপণের ব্যস্ত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি সারের সংকটে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা দিতে রাজি হয়েও অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। বিশেষ করে চর ও নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের দূরের বাজারে গিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।

রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় এ সংকটের কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, সার মজুদের সামগ্রিক ঘাটতি নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টিএসপি ব্যবহারের প্রবণতাই সংকটের ধারণা তৈরি করছে।

ছয় দোকান ঘুরেও মিলল না প্রয়োজনীয় সার

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম আট বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১০০ কেজি টিএসপি সার। কিন্তু ছয়টি সারের দোকান ঘুরে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪৫ কেজি।

এর মধ্যে ১৫ কেজি সরকারি নির্ধারিত কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দরে কিনতে পারলেও বাকি ৩০ কেজির জন্য তাঁকে কেজিপ্রতি আরও ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।

আমন মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট, চিন্তায় কৃষক

নজরুল ইসলাম বলেন, ধানের শিকড় শক্ত করা এবং গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে টিএসপি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সময়মতো দিতে না পারলে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

তাঁর ভাষ্য, ইউরিয়া ও ডিএপি চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া গেলেও টিএসপি না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

চরে সংকট আরও তীব্র

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারীর কৃষক বাবলু মিয়া ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১৭০ কেজি টিএসপি। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র ৫০ কেজি।

বাবলু মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টিএসপি নেই বলে জানাচ্ছেন। বেশি দাম দিতে চাইলেও অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মন্নাফ মিয়াও একই সমস্যায় পড়েছেন। ১০ বিঘা জমির জন্য তাঁর প্রয়োজন প্রায় ১৫০ কেজি টিএসপি। তিন দিন বিভিন্ন দোকানে ঘুরে তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র ৫০ কেজি। এর জন্য সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থও দিতে হয়েছে।

চাহিদা বাড়লেও বরাদ্দ কম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ব্যবসায়ী জুলহাস হোসেন জানান, তাঁর দোকানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার কেজি টিএসপির চাহিদা আসে। অথচ সরকার থেকে বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৫০০ কেজি।

সারের কৃত্রিম সংকট, চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে

তিনি বলেন, বরাদ্দ না বাড়ালে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন ধান। গত বছর এই অঞ্চলে ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছিল। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১৫২ হেক্টর।

অতিরিক্ত ব্যবহারের অভিযোগ কৃষি বিভাগের

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন চারা রোপণের সময় টিএসপি খুব বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অনেক কৃষক সুপারিশ করা মাত্রার চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি টিএসপি ব্যবহার করছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের টিএসপির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। অথচ ইউরিয়া ও ডিএপির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নয়, বরং সুপারিশকৃত কৃষি পদ্ধতি অনুযায়ী সারের প্রয়োজন নির্ধারণ করে সরকার বরাদ্দ দেয়। কৃষকেরা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী অতিরিক্ত টিএসপি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন সরবরাহের ওপর চাপ পড়ে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার মাটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

কৃষি বিভাগ সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জয়পুরহাটে সার সংকট, চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা

অক্টোবর পর্যন্ত মজুদ থাকার দাবি

রংপুর আঞ্চলিক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সার বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো অঞ্চলে সারের সামগ্রিক সংকট নেই। অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজন মেটানোর মতো সার মজুদ রয়েছে।

তিনি জানান, কৃষি বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে সার বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকারি নির্ধারিত খুচরা দামে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করা হয়।

তবে কোনো এলাকায় সার না পাওয়া গেলে বা বেশি দামে বিক্রি হলে সেটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি নজরদারিতে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি হিসাবে ইউরিয়ার দাম কেজিপ্রতি ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা এবং ডিএপি ২১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা প্রকৃত দামে সার পাচ্ছেন কি না, পর্যাপ্ত বরাদ্দ পৌঁছাচ্ছে কি না এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চাহিদা কতটা বাড়ছে—এসব বিষয় এখন আমন মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমন মৌসুমে টিএসপি সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ তাই শুধু সার পাওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; সময়মতো প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।