বিএনপি জোটের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন আর চাপাবাজি, গলাবাজি কিংবা দম্ভ দেখানোর সময় নেই। সত্য কথা বলতে হবে, তবে তা বলতে হবে হিসাব করে ও ভদ্রভাবে।
শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সত্য বলতে হবে, পোলাইটলি’
মান্না বলেন, “এখন সত্য কথা বলতে হবে, পোলাইটলি বলতে হবে। দম্ভ দেখানোর সময় এখন না, হ্যাডম দেখানো যাবে না।”
আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন শান্ত, শিষ্ট ও চিন্তাশীল নেতা। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবেচিন্তে এগোতেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মান্না।
বিদ্যুতের দাম নিয়ে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কখনও বলা হচ্ছে ছয় মাস লাগবে, আবার কেউ বলছেন দুই বছর, অন্য কেউ বলছেন দুই সপ্তাহ। এভাবে সময়সীমা না বলে এখন অত্যন্ত হিসাব করে বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন।
মান্নার ভাষায়, মানুষ এখন নেতাদের বক্তব্য বিচার করে। তাই শুধু বাতাসে কথা বললে হবে না, গলাবাজি করেও লাভ নেই। রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
সালাম তালুকদারকে স্মরণ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জামালপুর সমিতি, ঢাকার আয়োজনে ‘সালাম তালুকদার: নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার শুধু জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না; তিনি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রেরও একজন অভিভাবক ছিলেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে তিনি সালাম তালুকদারকে বটবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর কাছ থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির শিক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে মানুষের কাছাকাছি থাকা এবং মানুষের মন জয় করা যায়, সালাম তালুকদার তা দেখিয়ে গেছেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার। তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জামালপুর সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, মেজর (অব.) আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্মমহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।
সত্য কথা বলুন, তবে হিসাব করে ও ভদ্রভাবে—সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যে এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















