বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি জেলায় গত ৭২ ঘণ্টায় একাধিক ‘উচ্চগতির’ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৮ জন সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করা হয়। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে অভিহিত করে।
মাস্তুংয়ে ৬, কোয়েটায় ২৬ নিহত
শুক্রবার মাস্তুং জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত করে। পরে বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হয় বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় আরেক অভিযানে চারটি ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে গোলাগুলির পর ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর দাবি।
কালাত ও সিবিতেও অভিযান
কালাত জেলায় একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে হত্যার কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। একই সময়ে সিবি জেলার ভাগ এলাকায় একটি থানায় হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই অভিযানে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর কালাত জেলায় পৃথক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে ১২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর। সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতরা ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্য।
ভাগে সমন্বিত হামলার চেষ্টা
বেলুচিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাগে একটি পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক ও সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে সমন্বিত হামলার চেষ্টা চালায় প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র হামলাকারী। তারা ভারী অস্ত্র, রকেট লঞ্চার, মেশিনগান, স্নাইপার রাইফেল ও গ্রেনেড ব্যবহার করে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লড়াইয়ের পর হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী শহীদ রিন্দ জানিয়েছেন। পুলিশ স্টেশনের সুরক্ষা দেয়াল প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হামলাকারীরা থানার অস্ত্রাগার দখল বা ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করতে পারেনি। তাদের পুঁতে রাখা একটি আইইডিও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল নিষ্ক্রিয় করে।
হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও তিন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বেলুচিস্তানে বাড়ছে হামলা
সাম্প্রতিক অভিযানগুলো এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছে। ৩১ আগস্ট রাতে পিশিন জেলায় কাস্টমস হাউসে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। ওই সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
একই দিনে চাগাইয়ের নোকচা এলাকায় অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ১১ ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ সদস্য নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (PICSS) মাসিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে আগস্টে সন্ত্রাসী হামলা জুলাইয়ের ৮৩টি থেকে বেড়ে ৮৯টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, চলতি বছর বেলুচিস্তানেই ১ হাজার ১৮৮ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার তথ্য দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















