পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ ও অপসারণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কি ক্রমেই অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তাদের হারাচ্ছে—এখন সেটিই আলোচনার বড় বিষয়।
সেনাসচিবের পদত্যাগে নতুন প্রশ্ন
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বিদায়ের ধারাবাহিকতায় সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রায় ১৮ মাস আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে সেনাবাহিনী আধুনিকায়ন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
তাঁর হঠাৎ বিদায় পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে, হেগসেথের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে যে বিতর্ক আগে থেকেই ছিল, ড্রিসকলের পদত্যাগের পর তা আরও জোরালো হয়েছে।
একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিদায়
হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন অথবা পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যৌথ বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল এবং সেনাবাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।
ফলে সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের স্তরে অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব যুদ্ধ পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় কতটা পড়ছে, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরান যুদ্ধের মাঝেও অস্ত্রের ঘাটতি
ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগনের সামনে আরও কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদের মজুত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগের পাশাপাশি হেগসেথ কীভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন, সেই বিষয়টিও পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে।
দীর্ঘদিন সমুদ্রে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মনোবল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর অবশেষে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় বন্দরে ভেড়ার কথা।

এত দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে থাকার ঘটনা রণতরীটির কর্মীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। জাহাজের পরিবেশ এবং কর্মীদের মানসিক চাপ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পাতায়ায় এই সফরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭৫ সালে সাইগন পতনের পর সেখানে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্যের উপস্থিতি হতে যাচ্ছে।
নেতৃত্ব ও মনোবল নিয়ে চাপ বাড়ছে
পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক পরিবর্তন, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দায়িত্বের কারণে সেনাদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ—সব মিলিয়ে হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে।
শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বিদায় কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব, প্রস্তুতি এবং মনোবলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পেন্টাগনের নেতৃত্ব সংকট ও হেগসেথের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো সহজ বাংলায় তুলে ধরা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















