মলদোভা থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমানের নরওয়ের উদ্দেশে যাত্রা ড্রোন সতর্কতার কারণে বিলম্বিত হয়েছে। মঙ্গলবার মলদোভার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলে জেলেনস্কির বিমানসহ আরও কয়েকটি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ আটকে যায়।
মলদোভা সরকারের এক মুখপাত্র বুধবার জানান, ড্রোন সতর্কতার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, একটি রুশ ড্রোন মলদোভার ভূখণ্ডে নেমে এসেছে। এরপর জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়।
আকাশসীমা বন্ধ থাকার সময় মলদোভায় তিনটি উড্ডয়ন এবং চারটি অবতরণ বিলম্বিত হয়। কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দুটি রুশ ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর একটি রাজধানী চিসিনাউয়ের উত্তরে একটি মাঠে পড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত করে। অন্য ড্রোনটি মলদোভার আকাশসীমা পেরিয়ে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু ড্রোনের এই অনুপ্রবেশকে মানুষের জীবনের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেন-মলদোভা সীমান্তের একটি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে রুশ ড্রোন হামলারও নিন্দা জানান তিনি। ওই হামলায় দুইজন নিহত হন।
এদিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বুধবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে জানান, জেলেনস্কির বিমানটি মলদোভা থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একটি ড্রোনের প্রায় আঘাতের মুখে পড়েছিল।
স্টোরে বলেন, জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমানটি মলদোভা থেকে উড্ডয়নের ঠিক আগে একটি ড্রোনের প্রায় আঘাতের শিকার হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বর্তমানে যে বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। তবে ড্রোনটি বিমানের কতটা কাছাকাছি এসেছিল বা তিনি এই তথ্যের কোন উৎস থেকে পেয়েছেন, সে বিষয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানাননি।
জেলেনস্কি নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের শেষকৃত্যে যোগ দিতে অসলো যাচ্ছিলেন। বুধবার তিনি অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে মধ্য অসলোতে রাজার কফিনের পেছনে শোকযাত্রায় অংশ নেন। শেষকৃত্য শেষ হওয়ার পরপরই তিনি নরওয়ে ত্যাগ করেন।
মলদোভার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপরও ক্রমশ বাড়ছে, তা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের কাছাকাছি মলদোভার আকাশসীমায় ড্রোনের প্রবেশ এবং একটি ড্রোনের দেশটির ভূখণ্ডে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















