০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ন্যাটোর নজরদারিতে রাশিয়ার গোপন সাবমেরিন মহড়া, লক্ষ্য সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ তার জাপানের এআই স্যাটেলাইটকে ‘গুরুতর হুমকি’ বলল চীন সামরিক যোগাযোগে মাস্কের স্পেসএক্সের ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা বাড়ছে তাইজে তীব্র লড়াই, হুথিদের তিন ড্রোন ভূপাতিত নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয় নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ১০টির বেশি ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করেছিল ওপেনএআইয়ের ‘রগ’ এআই এজেন্ট চার্লি কার্কের মৃত্যুর এক বছর: বাড়ছে টার্নিং পয়েন্ট, কিন্তু তরুণদের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প ট্রাম্পের নতুন চমক: রিপাবলিকানরা জিতলে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখলে হুথিরা, জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অজানা সাইটে অননুমোদিত যোগাযোগ করেছে

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির কর দাবির বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ।

রায়ের ফলে এনবিআরের কর দাবি বহাল থাকল। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

কর দাবির বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের দাবি বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ অর্থবছরের কর নিয়ে বিরোধ

এনবিআর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কর পুনর্মূল্যায়ন করে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে। এই কর বিরোধের মূল বিষয় গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা কর।

২০১৭ সালে এনবিআরের এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ওই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে আগের রায় প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের বক্তব্য

গ্রামীণ কল্যাণের আরেক আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণফোন গ্রামীণ কল্যাণকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় ১৫ শতাংশ কর উৎসে কেটে রাখে। সেই কর পরিশোধের পরও কেন অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে—এ প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রামীণ কল্যাণের মামলা প্রত্যাহার এবং কর মওকুফের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই আবদুল্লাহ আল মামুন এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, মামলাটি বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চেই শুনানির অপেক্ষায় ছিল।

ইউনূসের সঙ্গে মামলার সম্পর্ক

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির নামেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করছেন।

গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের নভেম্বরে কোম্পানি আইনের অধীনে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০২ সালের জুলাইয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতেও নিবন্ধন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটোর নজরদারিতে রাশিয়ার গোপন সাবমেরিন মহড়া, লক্ষ্য সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ তার

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

০৫:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির কর দাবির বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ।

রায়ের ফলে এনবিআরের কর দাবি বহাল থাকল। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

কর দাবির বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের দাবি বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ অর্থবছরের কর নিয়ে বিরোধ

এনবিআর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কর পুনর্মূল্যায়ন করে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে। এই কর বিরোধের মূল বিষয় গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা কর।

২০১৭ সালে এনবিআরের এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ওই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে আগের রায় প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের বক্তব্য

গ্রামীণ কল্যাণের আরেক আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণফোন গ্রামীণ কল্যাণকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় ১৫ শতাংশ কর উৎসে কেটে রাখে। সেই কর পরিশোধের পরও কেন অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে—এ প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রামীণ কল্যাণের মামলা প্রত্যাহার এবং কর মওকুফের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই আবদুল্লাহ আল মামুন এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, মামলাটি বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চেই শুনানির অপেক্ষায় ছিল।

ইউনূসের সঙ্গে মামলার সম্পর্ক

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির নামেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করছেন।

গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের নভেম্বরে কোম্পানি আইনের অধীনে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০২ সালের জুলাইয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতেও নিবন্ধন করা হয়।