০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানের এআই স্যাটেলাইটকে ‘গুরুতর হুমকি’ বলল চীন

জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সামরিক স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনাকে চীনের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এ ধরনের স্যাটেলাইট জাপানের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই গত সপ্তাহে জানিয়েছে, দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কৌশলগত স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনা করছে। এসব স্যাটেলাইট মহাকাশে থাকা অবস্থায় নজরদারি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। এর ফলে লক্ষ্য নির্ধারণ ও সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের পরিকল্পিত স্যাটেলাইটগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে মহাকাশ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা ও নজরদারি তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায়। এই প্রযুক্তি জাপানের কথিত ‘পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী করতে পারে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও নির্দেশনার মতো সামরিক কার্যক্রমও থাকতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জাপানের এই পরিকল্পনাকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখেছে। তাদের সতর্কতা অনুযায়ী, এআই ও মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয় জাপানের দূরপাল্লার আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে, যা চীনের নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।China's AI-powered satellite takes 'closer look' at India, Japan |  Technology News (HT Tech)

নিক্কেইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে প্রথমে একটি প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইট তৈরি করবে। পরবর্তী কয়েক বছরে এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার পরীক্ষা স্থলভাগে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপান ২০৩০ অর্থবছর থেকে এসব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিটি বাস্তবে ব্যবহারের পর্যায়ে যেতে এখনো কয়েক বছর সময় লাগবে।

জাপানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় মহাকাশ প্রযুক্তি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ব্যবহার ইতিমধ্যে আধুনিক সামরিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

তবে চীনের সতর্কবার্তা দেখাচ্ছে, জাপানের এই মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হিসেবে দেখছে না বেইজিং। বরং এ ধরনের উদ্যোগকে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখছে চীন।

জাপান ও চীনের মধ্যে পূর্ব চীন সাগর, সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ও দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের এআই স্যাটেলাইটকে ‘গুরুতর হুমকি’ বলল চীন

০৭:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সামরিক স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনাকে চীনের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এ ধরনের স্যাটেলাইট জাপানের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই গত সপ্তাহে জানিয়েছে, দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কৌশলগত স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনা করছে। এসব স্যাটেলাইট মহাকাশে থাকা অবস্থায় নজরদারি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। এর ফলে লক্ষ্য নির্ধারণ ও সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের পরিকল্পিত স্যাটেলাইটগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে মহাকাশ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা ও নজরদারি তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায়। এই প্রযুক্তি জাপানের কথিত ‘পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী করতে পারে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও নির্দেশনার মতো সামরিক কার্যক্রমও থাকতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জাপানের এই পরিকল্পনাকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখেছে। তাদের সতর্কতা অনুযায়ী, এআই ও মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয় জাপানের দূরপাল্লার আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে, যা চীনের নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।China's AI-powered satellite takes 'closer look' at India, Japan |  Technology News (HT Tech)

নিক্কেইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে প্রথমে একটি প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইট তৈরি করবে। পরবর্তী কয়েক বছরে এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার পরীক্ষা স্থলভাগে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপান ২০৩০ অর্থবছর থেকে এসব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিটি বাস্তবে ব্যবহারের পর্যায়ে যেতে এখনো কয়েক বছর সময় লাগবে।

জাপানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় মহাকাশ প্রযুক্তি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ব্যবহার ইতিমধ্যে আধুনিক সামরিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

তবে চীনের সতর্কবার্তা দেখাচ্ছে, জাপানের এই মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হিসেবে দেখছে না বেইজিং। বরং এ ধরনের উদ্যোগকে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখছে চীন।

জাপান ও চীনের মধ্যে পূর্ব চীন সাগর, সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ও দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।