চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহান্তে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। প্রায় সাত বছর পর এটি হবে ভারতে তাঁর প্রথম সফর। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শি এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও এই বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শির ভারত সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন চীনা প্রেসিডেন্ট কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত কূটনৈতিক সফরসূচির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর গত সপ্তাহে মিসরে রাষ্ট্রীয় সফর করেন। প্রায় এক দশক পর সেটিই ছিল মিসরে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
চলতি মাসের শেষ দিকে শির যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভারত সফরটি চীনের সাম্প্রতিক বিস্তৃত কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে শি ছাড়াও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অংশ নেবেন। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
শির এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে চীন-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। ২০২০ সালে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বেইজিং ও নয়াদিল্লি। গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করে। চলতি মাসে তারা সীমান্ত বাণিজ্যও আবার শুরু করেছে।
এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশ ধীরে ধীরে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। এর মধ্যেই শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি চীন-ভারত সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের নেতাদের আলোচনার দিকে নজর থাকবে।
শির সাত বছর পর ভারত সফর একই সঙ্গে এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সম্পর্কের পরিবর্তনশীল চিত্রও সামনে আনছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা কাটিয়ে চীন ও ভারত কতটা স্থায়ীভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারে, সেটিই এখন কূটনৈতিক মহলের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















