০৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের পুরোনো জ্যাকেটেই ফিরল নতুন ফ্যাশনের ছাঁট

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কখনো কখনো পুরোনো পোশাকই নতুন করে ফিরে আসে। এবার সেই ফিরে আসার গল্পে জায়গা করে নিয়েছে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় তিন দশকের পুরোনো একটি জ্যাকেট। নতুন করে পোশাক কেনার বদলে পুরোনো জ্যাকেটকেই সামান্য বদলে ২০২৬ সালের নতুন ফ্যাশনধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক ফ্যাশন লেখিকা।

চলতি মৌসুমে জিল স্যান্ডার ও প্রাদার কোটে দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত সরু কাঁধ, শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁটভাবে বসানো ডাবল-ব্রেস্টেড ল্যাপেল এবং আরও সোজা ও কাঠামোবদ্ধ অবয়ব। কয়েক মাস আগে এই নতুন ছাঁট দেখেই লেখিকার মনে হয়, কলেজজীবন থেকে ব্যবহার করে আসা তাঁর ঢিলেঢালা, কিছুটা বড় আকারের উটরঙা ম্যাক্স মারা জ্যাকেটটি যেন হঠাৎ পুরোনো হয়ে গেছে।

তবে জ্যাকেটটির সঙ্গে ছিল দীর্ঘদিনের স্মৃতি। এটি শুধু একটি পোশাক নয়, তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া পারিবারিক স্মৃতির অংশ। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তাঁর মা নিউইয়র্কের নিম্যান মার্কাস থেকে জ্যাকেটটি কিনেছিলেন। সেই সময়ই জিল স্যান্ডার ও প্রাদা তীক্ষ্ণভাবে তৈরি, ছিমছাম ও কাঠামোবদ্ধ পোশাকের যে ধারা জনপ্রিয় করেছিলেন, বর্তমান ফ্যাশনে সেই ধরনের ছাঁটই আবার ফিরে আসছে।

তাই পুরোনো জ্যাকেটটি বাদ না দিয়ে সেটিকে নতুন রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লেখিকা। তাঁর লক্ষ্য ছিল পুরোনো পোশাকের গল্প ও চরিত্র ধরে রেখে সেটিকে ২০২৬ সালের শীতের উপযোগী করে তোলা। বিশেষ করে পুরোনো কলাম পোশাক ও সরু পেন্সিল স্কার্টের সঙ্গে জ্যাকেটটি পরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

এই কাজের জন্য তিনি নিউইয়র্কের লোয়ার ইস্ট সাইডের পোশাক মেরামত ও পরিবর্তনকারী গেজ ফ্লোরেসের সাহায্য নেন। ফ্লোরেস নিজের ট্রাক থেকেই পোশাক মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ পরিচালনা করেন। তাঁর কাছে এমন ধরনের পোশাকের অবয়ব ছোট বা পরিবর্তন করার অনুরোধ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার এসেছে বলেও জানান তিনি।

ফ্লোরেসের কাছে পুরোনো পোশাকের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তাঁর মতে, যে পোশাকের সঙ্গে মানুষের একটি গল্প জড়িয়ে আছে, সেটি নিয়ে কাজ করার আনন্দই অন্যরকম। একজন মানুষ কীভাবে একটি পোশাককে নিজের মতো করে নতুন করে গড়ে নেন, অনেক সময় সেই গল্প পোশাকটির চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ফিটিংয়ের সময় দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, জ্যাকেটটিকে আরও দৃঢ় ও কাঠামোবদ্ধ চেহারা দিতে হবে। প্রথম পরিবর্তন হিসেবে এক বোতামের সামনের অংশ বদলে ডাবল-ব্রেস্টেড নকশা করা হয়। সেখানে ব্যবহার করা হয় গাঢ় রঙের বিপরীতধর্মী বোতাম। ঢালু কাঁধের অংশকে আরও ধারালো ও স্পষ্ট করা হয়। কোমরও সামান্য সরু করে দেওয়া হয়।These nostalgic fall fashion trends are the reason why it may be time to  shop your mom's closet

এতেই অবশ্য পরিবর্তনের কাজ শেষ হয়নি। জ্যাকেটের হাতায় যোগ করা হয় সুয়েডের কাফ। সব মিলিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরোনো জ্যাকেটটি একেবারে নতুন চেহারা পেয়ে যায়।

তবে পরিবর্তনের পরও জ্যাকেটটির পুরোনো স্মৃতিগুলো মুছে যায়নি। সেটি এখনও আগের মতোই পরিচিত। বহু বছর ব্যবহারের কারণে কনুই ও কলারের আলপাকা উলের অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি আলমারিতে থাকা পুরোনো পোশাকটির গায়ে এখনও সুগন্ধির পরিচিত গন্ধ লেগে আছে।

কিন্তু নতুন ছাঁট জ্যাকেটটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র দিয়েছে। আগের ঢিলেঢালা অবয়বের বদলে এখন সেটি শরীরের সঙ্গে অনেক বেশি মানানসই, দৃঢ় এবং আধুনিক। লেখিকার ভাষায়, নতুন জ্যাকেটটি পরে তাঁর মনে হচ্ছিল যেন প্রাদার কোনো অন্ধকার, রহস্যময় চরিত্রের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাঁটা যায়।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল, এই পরিবর্তন দেখে লেখিকার মায়ের প্রতিক্রিয়া। মেয়ের পাঠানো নতুন জ্যাকেটের ছবি দেখে তিনি উচ্ছ্বসিত হন। নিজের পুরোনো জ্যাকেটটি এভাবে নতুন করে ফিরে আসতে দেখে তিনি আনন্দের সঙ্গে মেনে নেন যে পোশাকটি এখন হয়তো আগের চেয়ে ‘একটু বেশি আধুনিক’ হয়েছে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি পুরোনো জ্যাকেটের পরিবর্তনের গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাশনে পুনর্ব্যবহার, পারিবারিক স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত রুচির মেলবন্ধন। নতুন পোশাক কিনে পুরোনোটি ফেলে দেওয়ার বদলে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি পুরোনো পোশাককে নতুন জীবনের সুযোগ দেওয়া যায়—এই ধারণাটিও এতে উঠে এসেছে।

ফ্যাশনের প্রবণতা বদলাবে, ঢিলেঢালা ছাঁটের জায়গায় কখনো সরু ও কাঠামোবদ্ধ পোশাক জনপ্রিয় হবে, আবার অন্য সময় ফিরে আসবে অন্য কোনো ধরন। কিন্তু একটি পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি সহজে পুরোনো হয় না। আর সঠিকভাবে কাটছাঁট ও পরিবর্তন করতে পারলে সেই স্মৃতির পোশাকই হয়ে উঠতে পারে একেবারে নতুন সময়ের ফ্যাশন।

শেষ পর্যন্ত তাই সেরা ফ্যাশন হয়তো শুধু নতুন কিছু কেনার মধ্যে নেই। বরং নিজের গল্প, পুরোনো পোশাক এবং ব্যক্তিগত রুচিকে মিলিয়ে পোশাককে নিজের মতো করে নেওয়ার মধ্যেই তার আসল সৌন্দর্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পুরোনো জ্যাকেটেই ফিরল নতুন ফ্যাশনের ছাঁট

০৮:৫০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কখনো কখনো পুরোনো পোশাকই নতুন করে ফিরে আসে। এবার সেই ফিরে আসার গল্পে জায়গা করে নিয়েছে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় তিন দশকের পুরোনো একটি জ্যাকেট। নতুন করে পোশাক কেনার বদলে পুরোনো জ্যাকেটকেই সামান্য বদলে ২০২৬ সালের নতুন ফ্যাশনধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক ফ্যাশন লেখিকা।

চলতি মৌসুমে জিল স্যান্ডার ও প্রাদার কোটে দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত সরু কাঁধ, শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁটভাবে বসানো ডাবল-ব্রেস্টেড ল্যাপেল এবং আরও সোজা ও কাঠামোবদ্ধ অবয়ব। কয়েক মাস আগে এই নতুন ছাঁট দেখেই লেখিকার মনে হয়, কলেজজীবন থেকে ব্যবহার করে আসা তাঁর ঢিলেঢালা, কিছুটা বড় আকারের উটরঙা ম্যাক্স মারা জ্যাকেটটি যেন হঠাৎ পুরোনো হয়ে গেছে।

তবে জ্যাকেটটির সঙ্গে ছিল দীর্ঘদিনের স্মৃতি। এটি শুধু একটি পোশাক নয়, তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া পারিবারিক স্মৃতির অংশ। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তাঁর মা নিউইয়র্কের নিম্যান মার্কাস থেকে জ্যাকেটটি কিনেছিলেন। সেই সময়ই জিল স্যান্ডার ও প্রাদা তীক্ষ্ণভাবে তৈরি, ছিমছাম ও কাঠামোবদ্ধ পোশাকের যে ধারা জনপ্রিয় করেছিলেন, বর্তমান ফ্যাশনে সেই ধরনের ছাঁটই আবার ফিরে আসছে।

তাই পুরোনো জ্যাকেটটি বাদ না দিয়ে সেটিকে নতুন রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লেখিকা। তাঁর লক্ষ্য ছিল পুরোনো পোশাকের গল্প ও চরিত্র ধরে রেখে সেটিকে ২০২৬ সালের শীতের উপযোগী করে তোলা। বিশেষ করে পুরোনো কলাম পোশাক ও সরু পেন্সিল স্কার্টের সঙ্গে জ্যাকেটটি পরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

এই কাজের জন্য তিনি নিউইয়র্কের লোয়ার ইস্ট সাইডের পোশাক মেরামত ও পরিবর্তনকারী গেজ ফ্লোরেসের সাহায্য নেন। ফ্লোরেস নিজের ট্রাক থেকেই পোশাক মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ পরিচালনা করেন। তাঁর কাছে এমন ধরনের পোশাকের অবয়ব ছোট বা পরিবর্তন করার অনুরোধ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার এসেছে বলেও জানান তিনি।

ফ্লোরেসের কাছে পুরোনো পোশাকের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তাঁর মতে, যে পোশাকের সঙ্গে মানুষের একটি গল্প জড়িয়ে আছে, সেটি নিয়ে কাজ করার আনন্দই অন্যরকম। একজন মানুষ কীভাবে একটি পোশাককে নিজের মতো করে নতুন করে গড়ে নেন, অনেক সময় সেই গল্প পোশাকটির চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ফিটিংয়ের সময় দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, জ্যাকেটটিকে আরও দৃঢ় ও কাঠামোবদ্ধ চেহারা দিতে হবে। প্রথম পরিবর্তন হিসেবে এক বোতামের সামনের অংশ বদলে ডাবল-ব্রেস্টেড নকশা করা হয়। সেখানে ব্যবহার করা হয় গাঢ় রঙের বিপরীতধর্মী বোতাম। ঢালু কাঁধের অংশকে আরও ধারালো ও স্পষ্ট করা হয়। কোমরও সামান্য সরু করে দেওয়া হয়।These nostalgic fall fashion trends are the reason why it may be time to  shop your mom's closet

এতেই অবশ্য পরিবর্তনের কাজ শেষ হয়নি। জ্যাকেটের হাতায় যোগ করা হয় সুয়েডের কাফ। সব মিলিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরোনো জ্যাকেটটি একেবারে নতুন চেহারা পেয়ে যায়।

তবে পরিবর্তনের পরও জ্যাকেটটির পুরোনো স্মৃতিগুলো মুছে যায়নি। সেটি এখনও আগের মতোই পরিচিত। বহু বছর ব্যবহারের কারণে কনুই ও কলারের আলপাকা উলের অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি আলমারিতে থাকা পুরোনো পোশাকটির গায়ে এখনও সুগন্ধির পরিচিত গন্ধ লেগে আছে।

কিন্তু নতুন ছাঁট জ্যাকেটটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র দিয়েছে। আগের ঢিলেঢালা অবয়বের বদলে এখন সেটি শরীরের সঙ্গে অনেক বেশি মানানসই, দৃঢ় এবং আধুনিক। লেখিকার ভাষায়, নতুন জ্যাকেটটি পরে তাঁর মনে হচ্ছিল যেন প্রাদার কোনো অন্ধকার, রহস্যময় চরিত্রের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাঁটা যায়।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল, এই পরিবর্তন দেখে লেখিকার মায়ের প্রতিক্রিয়া। মেয়ের পাঠানো নতুন জ্যাকেটের ছবি দেখে তিনি উচ্ছ্বসিত হন। নিজের পুরোনো জ্যাকেটটি এভাবে নতুন করে ফিরে আসতে দেখে তিনি আনন্দের সঙ্গে মেনে নেন যে পোশাকটি এখন হয়তো আগের চেয়ে ‘একটু বেশি আধুনিক’ হয়েছে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি পুরোনো জ্যাকেটের পরিবর্তনের গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাশনে পুনর্ব্যবহার, পারিবারিক স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত রুচির মেলবন্ধন। নতুন পোশাক কিনে পুরোনোটি ফেলে দেওয়ার বদলে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি পুরোনো পোশাককে নতুন জীবনের সুযোগ দেওয়া যায়—এই ধারণাটিও এতে উঠে এসেছে।

ফ্যাশনের প্রবণতা বদলাবে, ঢিলেঢালা ছাঁটের জায়গায় কখনো সরু ও কাঠামোবদ্ধ পোশাক জনপ্রিয় হবে, আবার অন্য সময় ফিরে আসবে অন্য কোনো ধরন। কিন্তু একটি পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি সহজে পুরোনো হয় না। আর সঠিকভাবে কাটছাঁট ও পরিবর্তন করতে পারলে সেই স্মৃতির পোশাকই হয়ে উঠতে পারে একেবারে নতুন সময়ের ফ্যাশন।

শেষ পর্যন্ত তাই সেরা ফ্যাশন হয়তো শুধু নতুন কিছু কেনার মধ্যে নেই। বরং নিজের গল্প, পুরোনো পোশাক এবং ব্যক্তিগত রুচিকে মিলিয়ে পোশাককে নিজের মতো করে নেওয়ার মধ্যেই তার আসল সৌন্দর্য।