ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে লেবার সরকার আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারত।
ইংল্যান্ডের যেসব এলাকায় এখনো দুই স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেসব এলাকায় কাউন্টি ও ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের পৃথক দায়িত্বের বদলে একক স্থানীয় সরকার কাঠামো চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। সরকারের যুক্তি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন আরও কার্যকর হবে এবং ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, স্থানীয় সরকার পুনর্গঠনের ফলে বাস্তবে অর্থ সাশ্রয় নাও হতে পারে। বরং পুনর্গঠনের কাজে বিপুল সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ায় স্থানীয় মানুষের সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আরও দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় সরকার পুনর্গঠনের এই উদ্যোগের কারণে মেয়রদের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ গঠনের সমান্তরাল প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
রেনার অবশ্য স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন নিয়ে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য থেকেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতিতে দেরি
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেনার লেবার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারত।
লেবার পার্টি নির্বাচনের সময়ই জানিয়েছিল, একটি নতুন শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার অংশ হিসেবে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিদ্ধান্তটি নিতে সময় নেয় এবং দলটির কয়েকজন সংসদ সদস্যও দ্রুত স্বীকৃতির জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।
শেষ পর্যন্ত গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্টারমার সরকার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে প্রায় এক বছর ধরে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ থাকলেও স্টারমার তাৎক্ষণিকভাবে সেই পথে এগোননি।
রেনার বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া সব সময়ই লেবার পার্টির নীতির অংশ ছিল। তাঁর মতে, বিষয়টি আরও আগে এবং আরও স্পষ্টভাবে করা উচিত ছিল।
ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কথা বলেন রেনার। মঙ্গলবার ঘোষিত ওই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে—বিশেষ করে লেবারের আসন্ন উপনির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
কেন্দ্রীয় লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করাকে কেউ কেউ লেবার সরকারের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে রেনারের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত কোনো নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি।
তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সরকার সংস্কার এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আগের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে লেবার সরকারের ভেতরের বিতর্কেরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















